অপপ্রচারের কড়া জবাব: শতভাগ পাসের নিখুঁত পরিসংখ্যান প্রকাশ নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলের

নিজস্ব প্রতিনিধি মোস্তাক আহমেদ- প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
অপপ্রচারের কড়া জবাব: শতভাগ পাসের নিখুঁত পরিসংখ্যান প্রকাশ নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুলের
৭৩

“সত্যের সৌন্দর্য ফলাফলে, আর মর্যাদার পরিচয় সত্য প্রকাশে”—এই নীতিকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের কড়া জবাব দিয়েছে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাছিমা কadir মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী বিশেষ মহল থেকে ছড়িয়ে পড়া অসত্য তথ্যের বিপরীতে সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত সঠিক তথ্য সামনে এনেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও অর্জন মূলত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের যৌথ নিরলস প্রচেষ্টার ফসল। আংশিক বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা চটকদার অপপ্রচার দিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অর্জিত সম্মানকে কোনোভাবেই খাটো করা সম্ভব নয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মৌলিক ভিত্তিই হলো যেকোনো তথ্যের সঠিক সত্যতা যাচাই করা।

বিতর্ক এড়াতে এবং সঠিক চিত্র সর্বসমক্ষে তুলে ধরতে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার মূল তথ্য ও নির্ভুল পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি থেকে টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৮৩ জন। শিক্ষাবোর্ডের সুস্পষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য ১০১ জন শিক্ষার্থীকে মূল ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অকৃতকার্যদের মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিধান নেই। ফলে এসএসসিতে মূল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮২ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৩৮২ জন শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করে পাসের হার শতভাগ বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

এই অভাবনীয় ও অসাধারণ সাফল্যের নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানটির বছরজুড়ে পরিচালিত কিছু ‘ইউনিক’ বিশেষ শিক্ষামূলক উদ্যোগ কাজ করেছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও ভিন্ন ভিন্ন সক্ষমতাকে সম্মান জানিয়ে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রতিটি অধ্যায় শেষে মডেল টেস্ট গ্রহণ করা হয়। পড়াশোনার ঘাটতি পূরণে প্রতি শনিবার বিশেষ রিকভারি ক্লাস এবং প্রতিদিনের পড়া সেদিনই আদায় করার জন্য ‘আফটার স্কুল’ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়, যেখানে পড়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয় না।

এছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতি ১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন ডেডিকেটেড গাইড টিচার থাকেন, যিনি সার্বিক একাডেমিক ও মানসিক দিক পর্যবেক্ষণ করেন। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা সরাসরি ‘হোম ভিজিট’ করেন এবং প্রতি মাসে অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন। প্রতিটি পার্বিক পরীক্ষার পর ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক যৌথ ত্রিপক্ষীয় সমাবেশের মাধ্যমে ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের পরামর্শে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পড়া আদায় করা হয়। পাশাপাশি বছরে ছুটি মাত্র ৩০ দিন রেখে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয় এবং পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়তি যত্নের অংশ হিসেবে হোস্টেল সুবিধা প্রদান করা হয়।

মেধার বৈচিত্র্য তুলে ধরে কর্তৃপক্ষ জানায়, সব শিক্ষার্থীর মেধা এক নয়—কেউ খেলাধুলা, কেউ শিল্পকলা বা উদ্ভাবনে পারদর্শী, আবার কেউ প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায়। তবে শিক্ষাবোর্ডের একাডেমিক নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কাজ। টেস্টে অকৃতকার্যদের বিষয়ে বোর্ডের নির্দেশনাই আইনসংগতভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ অপপ্রচার না চালিয়ে মেধা ও প্রচেষ্টায় প্রতিযোগিতার আহ্বান জানিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সাফল্য ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রমাণ করেছে। অপপ্রচারের বিপরীতে সত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মানুবর্তিতাই শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।