যুব সংঘের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

‘গাছের সঙ্গে মিতালী করি’ স্লোগানে মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

এসএম অপু, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
‘গাছের সঙ্গে মিতালী করি’ স্লোগানে মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
১০৬

‘গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই—গাছের সঙ্গে মিতালী করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের হাটিপাড়ার বান্দুমহিষা সচেতন যুব সংঘ ও বারসিকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১০০টি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

 

কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুব সদস্যরা স্থানীয় নার্সারি থেকে কদবেল, আমড়া, পেয়ারা, জলপাই ও পিচফলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনা, সড়কের পাশ এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে রোপণ করেন।

 

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বান্দুমহিষা সচেতন যুব সংঘের সভাপতি রুমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির, বারসিকের সহযোগী সমন্বয়কারী সত্যরঞ্জন সাহা এবং প্রজেক্ট অফিসার (কৃষি)।

 

বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বজ্রপাতে মানুষ ও প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পাশাপাশি নদীভাঙন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলছে। এসব সংকট মোকাবিলায় দেশীয় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পাখির খাদ্য ও আবাসস্থল সংরক্ষণ, অবকাঠামো সুরক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

যুব সংঘের সদস্যরা জানান, আগে তারা নিজ নিজ বাড়িতে বৃক্ষরোপণ করলেও এবার সংগঠিতভাবে বান্দুমহিষা সচেতন যুব সংঘের উদ্যোগে বাড়ি, সড়কের পাশ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেছেন। একই সঙ্গে এলাকার মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিতে নানা ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা গেলে পরিবেশ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি মানুষ, পশুপাখি এবং জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতেও এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

 

বক্তারা আরও জানান, বান্দুমহিষা গ্রামের প্রায় ৫০ জন যুবক ও শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এই নেটওয়ার্ক শুধু বৃক্ষরোপণেই নয়, বরং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

তারা বলেন, যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সরকারি সেবা প্রাপ্তি, নারীর সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রান্তিক পরিবারের অংশগ্রহণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদানের ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে ওঠায় সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়ছে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।