প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

শরতের আগেই লাল-সাদা শাপলায় ছেয়ে গেছে চলনবিল

আলামিন হক বিজয়, রাজশাহী ব্যুরো : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
শরতের আগেই লাল-সাদা শাপলায় ছেয়ে গেছে চলনবিল
৮৩

দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিল শুধু মৎস্য ও শস্যের ভান্ডার হিসেবেই নয়, বরং বর্ষাকালে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য লীলাভূমি হিসেবেও পরিচিত। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এ বিলে প্রতি বছর সাধারণত শরৎকালে লাল-সাদা শাপলার মনোমুগ্ধকর সমারোহ দেখা যায়। তবে এবার সেই চিরচেনা চিত্রে এসেছে ব্যতিক্রম। শরতের অপেক্ষা না করেই শ্রাবণের শুরুতেই বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি ছেয়ে গেছে লাল-সাদা শাপলায়।

 

আগাম ফোটা এ শাপলাকে ঘিরে এখন চলনবিলজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। একদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন, অন্যদিকে বিলপাড়ের শত শত কর্মহীন মানুষের জীবিকার অন্যতম অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই শাপলা।

 

বর্ষাকালে চলনবিল অঞ্চলের অনেক খেটে খাওয়া মানুষ কর্মসংস্থানের সংকটে পড়েন। খেত-খামারে কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। তবে এবারের আগাম শাপলা তাঁদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। প্রতিদিন ভোরে ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে কচি শাপলা সংগ্রহ করছেন তাঁরা। পরে আঁটি বেঁধে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। তরকারি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।

 

তারাশ উপজেলার সোহাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাদেক আলী (৪৫) বলেন, “বর্ষার এই সময়টায় আমাদের তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই শাপলা তুলে বিক্রি করি। কিন্তু এবার আল্লাহ আগেভাগেই বিলে শাপলা ফুটিয়েছেন। প্রতিদিন ভোরে নৌকা নিয়ে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত শাপলা সংগ্রহ করি। পরে আঁটি বেঁধে তারাশ বাজারে বিক্রি করি। এতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার বিক্রি হয়। এই দুর্যোগের সময়ে শাপলা বিক্রি করেই এখন আমাদের সংসার চলছে।”

 

শাপলা শুধু জীবিকার উৎসই নয়, স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কাছেও এটি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তারাশ গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আলী হাসান জানান, এইচএসসি পরীক্ষার কারণে বর্তমানে কলেজ বন্ধ থাকায় অবসর সময়ে তিন বন্ধু মিলে ডিঙি নৌকায় করে বিলে শাপলা তুলতে গিয়েছিলেন। পরে তেঁতুলের টক দিয়ে শাপলা মেখে খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে ছিল ভিন্নরকম আনন্দের।

 

সব মিলিয়ে চলনবিলে এখন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে লাল-সাদা শাপলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করছে, অন্যদিকে এই শাপলাই অনেক নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার ভরসা হয়ে উঠেছে। বর্ষার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনসংগ্রামের এমন মানবিক মেলবন্ধন চলনবিলকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা।