ধুনটে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী ও শোকাবহ দিন ২৮ অক্টোবর। ঐতিহাসিক এই পল্টন ট্র্যাজেডি দিবসটি যথাযোগ্য গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে স্মরণ করেছে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলা শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই রক্তস্নাত দিনটি উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ধুনটে সংগঠনের উদ্যোগে এক বিশাল আলোচনা সভা, নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং রাজপথে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বুধবার বিকেল ৩টায় ধুনট উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ধুনট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব অত্যন্ত সুনিপুণভাবে পালন করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল করিম। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বগুড়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য এবং ধুনট উপজেলার সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধান অতিথি ছাড়াও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ধুনট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির টি এম রফিকুল ইসলাম দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাহমুদ আলম ও ফিরোজ আহম্মেদ এবং উপজেলা কর্মপরিষদের সক্রিয় সদস্য আমান উল্লাহ খান। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে সভায় জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ধুনট উপজেলা শাখার সভাপতি সজিব ইসলাম। বক্তারা তাদের বক্তব্যে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষা এবং পল্টন ট্র্যাজেডির প্রকৃত দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জোর দাবি জানান।
আয়োজিত এই স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. আকবর আলী, মহসিন আলী, আবুল কাশেম, মাওলানা নজরুল ইসলাম, হাফেজ রেজাউল করিম, তরিকুল ইসলাম, খলিলুর রহমান ও বেলাল হোসেনসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। তাদের উপস্থিতিতে পুরো মডেল মসজিদ হলরুম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আলোচনা পর্ব শেষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ময়দানে বর্বরোচিত হামলায় নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
দোয়া মাহফিল শেষে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল ও সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ধুনট শহরের প্রধান প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ। শান্তিপূর্ণ এই পদযাত্রার মধ্য দিয়ে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জোরালো বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ধুনট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এই স্মরণসভা ও বিক্ষোভ মিছিল প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শহীদদের আত্মত্যাগ দলীয় নেতাকর্মীদের হৃদয়ে আজও অম্লান। গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় এবং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে দাবি এই সমাবেশ থেকে উঠে এসেছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

