আখাউড়ায় জুম্মার নামাজকে কেন্দ্র করে মসজিদ ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নতুন ও পুরোনো দুটি মসজিদে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ বিরোধের জেরে পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙা মসজিদেই নামজ আদায় করছেন এক পক্ষের লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইড়ল গ্রামে আইড়ল জামে মসজিদ নামে একটি পুরোনো মসজিদ রয়েছে। সেখানে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ হলে এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় স্থানীয়দের মধ্যে। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সে গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণের দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর আইনি জটিলতা শেষে সেখানে গত সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশ পাহারায় প্রথম নামাজ আদায় শুরু হয়। অন্যদিকে, পূর্বপাড়ার পুরোনো মসজিদেও নামাজ চলছিল। দুটি মসজিদে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বিরোধ যেন শেষ হবার নয়।
শুক্রবার উভয় পক্ষ নিজ নিজ মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজন পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দু’টি মসজিদের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ গজ।
মসজিদ ভাঙার আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আহতদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই মসজিদেই পুলিশের লোকজন নামাজ আদায় করে। পুলিশ যাওয়ার পরপরই পুরোনো মসজিদে হামলা চালায় নতুন মসজিদের লোকেরা। পরে আবার আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলামসহ আরো পুলিশ ছুটে যায়। ছুটে আসেন আখাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ।
মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।
মুজিবুল হক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নতুন হওয়া মসজিদের লোকজন পুরোনো মসজিদে এ হামলা করে। তারা মিম্বর ও দেয়াল ভেঙে ফেলে। ভাঙা মসজিদেই নামাজ পড়া হচ্ছে।’
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ ভাঙা ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আখাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মসজিদ ভাঙার খবরে সেখানে যাওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ মামলা দিবেন বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসার চিন্তাও চলমান আছে।

