​ভালুকায় যৌতুকলোভী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নারকীয় তাণ্ডব: ৩ সন্তানের জননীকে পেটে লাথি ও মারধর,ছিনতাই..! থানায় অভিযোগ দায়ের।

রাজু আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার :- ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
​ভালুকায় যৌতুকলোভী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নারকীয় তাণ্ডব: ৩ সন্তানের জননীকে পেটে লাথি ও মারধর,ছিনতাই..! থানায় অভিযোগ দায়ের।
৫৯

ময়মনসিংহের ভালুকায় তিন সন্তানের এক অসহায় গৃহবধূ ও তার ভাইয়ের ওপর যৌতুকলোভী স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি কর্তৃক বর্বরোচিত হামলা, মারধর এবং টাকা-মোবাইল ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর অজান্তে দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামী জাকির হোসেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আহত গৃহবধূ মোছাঃ রহিমা আক্তার (৩২) ও তার ভাই রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রহিমা আক্তার বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:
​অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ভালুকা উপজেলার কাইচান গ্রামের মোঃ কাজিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ জাকির হোসেনের সাথে মোছাঃ রহিমা আক্তারের রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহ হয়। দীর্ঘ ১১ বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের ঘরে জাকিয়া আক্তার (১১), কাউছার (৭) ও মাত্র ১৫ দিনের শিশু সন্তান কারিমন জন্মগ্রহণ করে।
​বিয়ের পর থেকেই স্বামী জাকির হোসেন ও তার পরিবার রহিমা আক্তার এবং তার অবুঝ শিশুদের ঠিকমতো খোরপোষ (ভরণ-পোষণ) দিত না। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে রহিমা আক্তার শ্বশুরবাড়ির সকল অত্যাচার নিরভে সয্য করে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে স্বামী জাকির হোসেন স্ত্রীর সম্পূর্ণ অজান্তে গোপনে অন্যত্র দ্বিতীয় বিবাহ সম্পন্ন করে।
​নৃশংস হামলা ও মালামাল লুট:
​গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুরে রহিমা আক্তার তার ভাই রুহুল আমিনকে সাথে নিয়ে বিবাদীদের বাড়িতে গেলে ১নং বিবাদী জাকিরকে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়ের বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষে রওনা হন। এ সময় স্বামী জাকির হোসেন (৩৬), শ্বশুর মোঃ কাজিম উদ্দিন (৬০), শাশুড়ি রাজিয়া বেগম (৫৫) এবং ভাসুর মোঃ দুলাল (৩৬) সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত ও অমানুষিক হামলা চালায়।
​অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা গৃহবধূ রহিমা আক্তার ও তার ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং রহিমা আক্তারের তলপেটে প্রচণ্ড শক্তিতে লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে। শুধু তাই নয়, বিবাদীরা তাদের বহনকৃত অটো গাড়িটি ভাঙচুর করে আনুমানিক ৯,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
​হামলাকারীরা রুহুল আমিনের কাছ থেকে ১৯,২৯৯ টাকা মূল্যের একটি ইনফিনিক্স (Infinix) মোবাইল সেট এবং পকেটে থাকা নগদ ৭,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের জীবন রক্ষা করেন। চলে যাওয়ার সময় বিবাদীরা রহিমা আক্তার ও তার ভাইকে কেটে ফেলার ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে।
​আইনি পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি:
​ঘটনার পর আহত অবস্থায় রহিমা আক্তার ও তার ভাই ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
​ভুক্তভোগী রহিমা আক্তার ও স্থানীয় সচেতন মহল জোর দাবি জানিয়েছেন, তিন সন্তানের জনক প্রতারক জাকির হোসেন এবং তার সহযোগী পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে আর কোনো নারীকে এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।