সাবেক মেয়র নুরুল হক ভূঁইয়ার আপত্তিকর মন্তব্যে ফুঁসছে দেবগ্রামবাসী, শিমুলের কড়া সতর্কবার্তা

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিনী, উপজেলা প্রতিনিধি, আখাউড়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ
সাবেক মেয়র নুরুল হক ভূঁইয়ার আপত্তিকর মন্তব্যে ফুঁসছে দেবগ্রামবাসী, শিমুলের কড়া সতর্কবার্তা
৯০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোটের মাঠে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার ডামাডোলের মাঝেই চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জনাব নুরুল হক ভূঁইয়া। সম্প্রতি একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্থানীয় দেবগ্রাম ও তারাগণ এলাকাকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জেরে আখাউড়া পৌরসভার অন্তর্গত দেবগ্রামের সাধারণ জনগণ চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সাধারণ ভোটারদের আত্মসম্মানে আঘাত হানায় পুরো এলাকাজুড়ে এখন বইছে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিও চিত্রে এই আপত্তিকর ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য প্রদানের একপর্যায়ে সাবেক মেয়র নুরুল হক ভূঁইয়া তারাগণ ও দেবগ্রামকে উদ্দেশ্য করে তীব্র তাচ্ছিল্য প্রকাশ করছেন। তিনি অত্যন্ত অবজ্ঞার সুরে বলেন যে, দেবগ্রাম থেকে একজন প্রার্থী নির্বাচন করবেন, কিন্তু তাতে কী লাভ, সেখানে তো কোনো ভোটই নেই। প্রকাশ্য জনসভায় একটি বৃহৎ জনপদকে নিয়ে এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং আরও বেশ কিছু আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলায় দেবগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ গভীরভাবে আহত হয়েছেন। একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিকের মুখ থেকে এমন কথা শোনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে।

জনগণের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটিয়ে দেবগ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আফজাল খান শিমুল এক কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের আবরণে সাবেক মেয়র নুরুল হক ভূঁইয়াকে তার মন্তব্যের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। শিমুল তার লিখিত প্রতিবাদী সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেন, ভূঁইয়া সাহেব একজন ‘আওয়ামী ল্যাসপেন্সার’ এবং দেবগ্রাম ও তারাগণ নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো কথাবার্তা বলার আগে তাকে নিজের জিহ্বা সংযত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিমুল স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে এই দেবগ্রাম ও তারাগণবাসীর মূল্যবান ভোটেই তিনি চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।

কঠোর সমালোচনার সুরে কবি আফজাল খান শিমুল সাবেক মেয়রকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জানতে চান, তিনি দেবগ্রাম ও তারাগণবাসীকে কত টাকা দিয়ে ভোট কিনেছিলেন, তা যেন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ ধরনের অর্থ লেনদেনের কথা বলা বা করা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচন আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। সাবেক মেয়র যে দাবি করেছেন দেবগ্রাম ও তারাগণে কোনো ভোট নেই, তার কড়া জবাব দিয়ে শিমুল পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, দেবগ্রামের দুটি কেন্দ্রে সাত হাজার এবং তারাগণের একটি কেন্দ্রে আঠাশ শত ভোট রয়েছে, যা কি সাবেক মেয়রের চোখে পড়ে না? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান, এই বিপুলসংখ্যক ভোটারকে তিনি মানুষ বলে মনে করেন কি না।

সতর্কবার্তার শেষাংশে শিমুল অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, যদি সত্যিই তিনি এই জনপদকে মানুষ বলে গণ্য না করেন, তবে তিনি যেন তার এই আপত্তিকর বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেন। বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত এই আখাউড়ার দুই বিখ্যাত গ্রামে তাকে কখনোই না আসার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। পরিশেষে, সাবেক মেয়রের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি তার এই প্রতিবাদলিপির সমাপ্তি টানেন।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের মুখ থেকে এমন অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্য ভোটারদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। দেবগ্রাম ও তারাগণের মতো জনবহুল ও ঐতিহ্যবাহী এলাকার ভোটারদের অস্বীকার করা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং এটি একটি আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও বটে। সাবেক মেয়র নুরুল হক ভূঁইয়া তার এই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন কি না, এবং এই ঘটনা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সাধারণ জনগণ এখন তাদের আত্মমর্যাদা রক্ষায় ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।