আশুলিয়ায় চার জাল নোটসহ গার্মেন্টসকর্মী আটক
সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুরে জুতার দোকানে ১ হাজার টাকার নোট ভাংতি করতে গিয়ে চারটি জাল নোটসহ এক গার্মেন্টসকর্মী আটক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে পরপর চারটি ১ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধারের পর নোটগুলো সংরক্ষণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নরসিংহপুরের নিট এশিয়া গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় একটি জুতার দোকানে যান ওই গার্মেন্টসকর্মী। তিনি দোকানদারের কাছে ১ হাজার টাকার একটি নোট ভাংতি করতে চান। নোটটি হাতে নেওয়ার পর দোকানদারের সন্দেহ হলে সেটি পরীক্ষা করা হয়। পরে নোটটি জাল বলে সন্দেহ হলে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার কাছে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনটি ১ হাজার টাকার নোট পাওয়া যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চারটি জাল নোট তার কাছ থেকে পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, আটক ব্যক্তি আশপাশের একটি গার্মেন্টসে লোডার হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর বিষয়টি আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামকে জানানো হয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার এসআই আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চারটি কথিত জাল নোট পরবর্তীতে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, জাল নোট হিসেবে সন্দেহ করা অর্থের নমুনা কেন সংরক্ষণ করা হলো না এবং বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্তের জন্য আলামত হিসেবে রাখা হয়েছিল কি না।
এদিকে, একজন গার্মেন্টসকর্মীর কাছে একসঙ্গে চারটি ১ হাজার টাকার কথিত জাল নোট থাকার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এসব নোট তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন, কার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং সেগুলো শুধু ভাংতি করার উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন, নাকি এর পেছনে কোনো সরবরাহকারী বা চক্র রয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নরসিংহপুর ও আশপাশের এলাকায় জাল নোটের কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে কথিত জাল নোট উদ্ধারের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে আটক ব্যক্তি জাল নোটগুলো জেনেশুনে বহন বা ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার করা নোটগুলো প্রকৃতপক্ষে জাল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম কিংবা এসআই আতাউর রহমানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

