টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা
ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রশাসনের
টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের ধারাবাহিক প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত উপজেলার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১০৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ের ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে আরও দুটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১০৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় গ্রহণকারী মানুষদের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খিচুড়িসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

বুধবার ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরতদের মাঝে খিচুড়ি বিতরণ করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।
পরে তিনি কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকাইয়া কলোনি এলাকায় গিয়ে পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসরত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কাপ্তাই ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম ও দুর্যোগকালীন সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আশ্রয় নেওয়া মানুষের নিরাপত্তা এবং খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পলাশ ঘোষ, উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ এবং ইউপি সদস্য মো. ইমান আলী উপস্থিত ছিলেন।

