কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসে দুই শিশু আহত, নিরাপদে সরানো হলো ৮০ জন
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কর্ণফুলী সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশু আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৮০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
আহত দুই শিশু হলো ফরহাদ ইসলাম ছোটন (৫), বেলাল হোসেনের ছেলে এবং আরিয়ান ইসলাম জোহান (১০), মনির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে কয়েকটি বসতঘরের ওপর এসে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা দুই শিশু মাটিচাপা পড়ে আহত হয়। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্ণফুলী সরকারি কলেজের দুটি কক্ষে ৫০ জন এবং সংলগ্ন স্টেডিয়ামের দুটি কক্ষে আরও ৩০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত দুই শিশুকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা জানান, পাহাড়ধসে তাদের বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত পুনর্বাসন, ঘর মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

