উপকৃত হবেন ৮০০ কৃষক

ঘিওরে নালী-বানিয়াজুরিতে ৫ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন

এসএম অপু, স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
ঘিওরে নালী-বানিয়াজুরিতে ৫ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন
৬৩

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়িত **‘বাংলাদেশের সেচের পানি ব্যবস্থাপনা এবং ওয়েবভিত্তিক কৃষি তথ্য ব্যবস্থার ওপর পাইলট গবেষণা প্রকল্প’**-এর অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ও বানিয়াজুরি এলাকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ গবেষণাধর্মী প্রকল্পে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এবং জার্মানির TH Köln-সহ একাধিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করছে।

 

প্রকল্পের মাধ্যমে একটি রিয়েল-টাইম কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারবেন। এই তথ্যভান্ডার থেকে কৃষি, সেচ, সার প্রয়োগ, মাটির গুণাগুণ, আবহাওয়া এবং ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন জমিতে কখন কোন ফসল চাষ উপযোগী, কী পরিমাণ সার ও সেচ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে আগাম তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বিএডিসির সেচ উইং ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির রিয়েল-টাইম তথ্য ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

 

গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঘিওরের নালী ও বানিয়াজুরি এলাকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী এবং স্থানীয় জনগণের চাহিদার আলোকে খনন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ খালের পানির উৎস যমুনা নদী থেকে ইছামতি হয়ে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন খালটি খনন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। খালটি পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা কমবে বলে তারা আশা করছেন। এছাড়া খননকাজে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাজুড়ে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

 

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ বিএডিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. তিতাস মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘদিন খালটি খনন না হওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। খালটি পুনঃখননের ফলে এ সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি আরও জানান, এই খালের পানি ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে এবং প্রায় ৮০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।