বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও হয়নি ফ্লাইওভার
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাধবপুরে ফ্লাইওভার-এর দাবিতে মানববন্ধন
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর বাজার এলাকায় সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিবর্তে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইওভার নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মাধবপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ অংশের দুই পাশে রয়েছে মাধবপুর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দাসহ মাধবপুর থানা, পোস্ট অফিস, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, রেস্ট হাউস, সাইহাম ফিউচার কমপ্লেক্স এবং অসংখ্য হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের যাতায়াত এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
শুধু মাধবপুর উপজেলার বাসিন্দারাই নন, পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার হাজারো মানুষও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। প্রতিদিন এ পথে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ঢাকা-সিলেট রুটের যাত্রীবাহী যানবাহন, বিভিন্ন শিল্পকারখানার পণ্যবাহী ট্রাক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের চলাচল হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে মাধবপুর বাজার এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ও বরাদ্দ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিবর্তে মাটি ভরাট করে সাধারণ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে সড়ক নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে মাধবপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনায় মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ রেখে পূর্বের বরাদ্দ অনুযায়ী মাধবপুর উপজেলা গেট থেকে সোনাই নদী সেতু পর্যন্ত ফ্লাইওভার দ্রুত নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইওভার নির্মিত হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিরও অবসান ঘটবে।

