কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

কৃষি কর্মকর্তা মোতাহারা বেগম তুহিনের পেঁপে চাষে সাফল্য

হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী), নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কৃষি কর্মকর্তা মোতাহারা বেগম তুহিনের পেঁপে চাষে সাফল্য
১৪৭

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেরারকুল গ্রামের একটি পেঁপে খেত এখন স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ঝুলছে বিভিন্ন আকারের কাঁচা ও পাকা পেঁপে। আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ করে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় শিক্ষক ও কৃষি উদ্যোক্তা ওসমান সরওয়ার (৩০)।

 

স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রায় ৩০ শতক জমিতে ‘টপ লেডি’ জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, চারা রোপণ, পরিচর্যা ও শ্রম ব্যয়সহ মোট বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ১৫০টি গাছ থেকে নয় দফায় পেঁপে সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেছেন প্রায় ৬০ হাজার টাকার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই মাসে মোট ৩০০টি গাছ থেকেই ফল সংগ্রহ করা যাবে। এতে প্রায় দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

ওসমান সরওয়ার জানান, তিনি আশারতলী তাফহিমুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর মাত্র ১০০টি গাছ দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও কম সময়ে ভালো লাভ পাওয়ায় তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। চলতি মৌসুমে তিনি ৩০ শতক জমিতে ৩০০টি ‘টপ লেডি’ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেন। রোপণের দুই মাস পর গাছে ফুল আসে এবং তিন মাসের মাথায় ফল বাজারজাত করা শুরু করেন।

 

ওসমানের এই সফলতা দেখে একই গ্রামের জাগের হোসেন, সাইফুল ইসলাম, শহিদ উল্লাহ, কাশেম, ওমর ফারুক, ওবাইদুল্লাহ, নুরুল হক, সালামত উল্লাহ, ইউনুছ, আলী হোসেন ও আলী আকবরসহ আরও অনেক কৃষক পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কয়েক বছর আগেও এলাকায় বসতভিটা কিংবা জমির আইলে সীমিত পরিসরে পেঁপে চাষ হলেও বর্তমানে লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এ ফসলের আবাদ দ্রুত বাড়ছে।

 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতাহারা বেগম তুহিন জানান, চলতি বছর আশারতলী ব্লকসহ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৫ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করেছেন। তাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু করেছেন।

 

তিনি বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ির উৎপাদিত পেঁপে জেলার অন্যান্য উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের আশারতলীসহ আশপাশের তিনটি এলাকায় প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সফলতা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে।