পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী
সাভারে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুত্তা ইউনিয়নের আউয়াল মার্কেট এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদনের একটি কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির পাশেই গড়ে ওঠা এই কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাকুত্তা আউয়াল মার্কেটের পূর্ব পাশে একটি ইটভাটার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত ব্যাটারি সংগ্রহ করে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয়। পরে সেগুলো থেকে সিসা আলাদা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত ঘন কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি সিসা ও অ্যাসিড মিশ্রিত বর্জ্য নির্গত হচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্য আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ায় ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাতাসে ভাসমান সিসার কণা ও ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাবে ধানের শীষ ও বিভিন্ন শাকসবজি কালচে হয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক ফলন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কারখানাটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, ব্যাটারি পোড়ানোর সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া সিসা (Lead) এবং সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, ফুসফুসের জটিলতা, কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি এবং ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে। এছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা এবং ফসলি জমির এত কাছে কীভাবে এমন একটি অবৈধ ও পরিবেশদূষণকারী কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকায় বড় ধরনের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে ভাকুত্তা এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও সচেতন মহল পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে কারখানাটি বন্ধ করে উচ্ছেদ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

