লাশ মিলল মেঘনা নদীর তীরে

নবীনগরে নিখোঁজ রিফাতের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

আবদুল হাদি, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
নবীনগরে নিখোঁজ রিফাতের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
৬১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ থাকা রিফাত (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার করিমপুর এলাকার মেঘনা নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের মধ্যে শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল, নিখোঁজ রিফাতের অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। মরদেহ উদ্ধারের পর সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

 

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যায় নিহতের বোন মরদেহটি শনাক্ত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

নিহতের বোন মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, মরদেহে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত দেখা গেছে। তিনি জানান, দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিফাতের স্ত্রী এবং তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

 

এর আগে গত ১৪ জুন রাতে নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় সশস্ত্র হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কনিকা দাস (৪০) নামে এক নারী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই রিফাত নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মৃত্যু ও মরদেহ গুমের আশঙ্কা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম বলেন, রিফাতের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তারা জেনেছেন। নিহতের পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।