বিট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কাপাসিয়ায় বনাঞ্চল থেকে প্রায় ১৩০টি গজারি গাছ কাটার অভিযোগ
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের ভুলেশ্বর এলাকার বনাঞ্চল থেকে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই প্রায় ১৩০টি গজারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে হারুন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গজারি গাছ কাটার অভিযোগে পরিবেশবাদী মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভুলেশ্বর এলাকার বনাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক গজারি গাছ কেটে ফেলা হয়। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে তারা বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, খবর পেয়ে গোসিংগা বিট অফিসার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাটা গাছগুলো জব্দ বা বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পরিবর্তে পুনরায় অভিযুক্ত হারুনের জিম্মায় রেখে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বন বিভাগের দায়িত্ব বনসম্পদ সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে, তার কাছেই কাটা গাছের জিম্মা দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মতে, অভিযোগের সত্যতা থাকলে বন বিভাগের উচিত ছিল কাটা গাছগুলো জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চান, যার বিরুদ্ধে বনাঞ্চলের মূল্যবান গজারি গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে, তার কাছেই কীভাবে কাটা গাছের দায়িত্ব দেওয়া হলো। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুন এবং গোসিংগা বিট অফিসার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বনসম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

