বাঙালী নদীর সাঁকো ভেঙে বিপর্যস্ত জনজীবন, পাকা সেতুর দাবি সোনাতলাবাসীর
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ভেলুরপাড়া সংলগ্ন হলিদাবগা ও বাঙালীহাট এলাকার সংযোগস্থলে বাঙালী নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হলিদাবগা ও বাঙালীহাট এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই সাঁকোটি ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দুই এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে নৌকা ছাড়া নদী পারাপারের অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জনসাধারণকে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন থাকা রোগীরাও সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি বছর নিজেদের অর্থ ব্যয়ে বাঁশের সাঁকো মেরামত করতে হয়। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় পাকা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এখন সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।”
এলাকাবাসীর মতে, বাঙালী নদীর এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে সাঁকো বা নৌকানির্ভর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত থেকেও মানুষ মুক্তি পাবে।
স্থানীয় জনগণ উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।

