পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি
আসামে ১৪ বছরের কিশোরীকে অপহরণ ও গণধর্ষণ, গ্রেফতার ১
ভারতের আসাম রাজ্যে আবারো এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পৈশাচিক অভিযোগ সামনে এসেছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দোকানে যাওয়ার পথে ওৎ পেতে থাকা তিন যুবক জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে এই ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করে বলে জানা গেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মায়ংয়ের ১ নম্বর গাগলমারী এলাকায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মায়ং থানায় একটি লিখিত এজাহার বা এফআইআর দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই নির্যাতিতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই পাশবিক অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে উবাইদুল্লাহ নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই অভিযুক্ত এখনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ওই কিশোরীটি তার বাড়ির নিকটবর্তী একটি দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সেই সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা তিন যুবক তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নির্জন স্থানে তার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালানো হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস অপরাধের পেছনে সরাসরি অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি হলো ইনামুল হোসেন, আলি হোসেন এবং উবাইদুল্লাহ। ঘটনার ভয়াবহতা টের পেয়ে নির্যাতিতার পরিবার বিলম্ব না করে স্থানীয় মায়ং থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং মূল অভিযুক্তদের একজন, উবাইদুল্লাহকে জালে তুলতে সক্ষম হয়।
এই পৈশাচিক ঘটনার খবর জানাজানি হতেই সমগ্র মায়ং এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এলাকার সচেতন নাগরিকরা পলাতক বাকি দুই অভিযুক্ত, ইনামুল হোসেন ও আলি হোসেনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে মায়ং থানার পুলিশ গ্রেফতারকৃত উবাইদুল্লাহকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং আত্মগোপনে থাকা বাকি দুই অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সমগ্র এলাকা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

