মালিকের অনুপস্থিতিতে ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের দাবি

শিবপুরের স্টার সিএনজি পাম্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
শিবপুরের স্টার সিএনজি পাম্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
৭০

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার স্টার সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে অনিয়ম, আর্থিক জালিয়াতি ও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ যানবাহনে গ্যাস সরবরাহের জন্য অনুমোদিত এ পাম্পে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ক্যাপটিভ বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত সিলিন্ডারবাহী লরিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাম্পের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্টার সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক সাবেক আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা নুরুদ্দিন মোল্লা। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ অবস্থায় পাম্পের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বর্তমান ম্যানেজারদের হাতে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, মালিকের অনুপস্থিতিকে পুঁজি করে তারা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং পাম্পের কার্যক্রমে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন।

 

নুরুদ্দিন মোল্লাকে নিয়ে স্থানীয়দের মতামত জানতে চাইলে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তি হিসেবে তিনি এলাকায় দানশীল ও সমাজসেবী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় না থাকায় পাম্পের কার্যক্রমের ওপর তার সরাসরি তদারকি নেই বলেও দাবি করেন তারা।

 

পাম্পের মালিকানা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ সম্পর্কিত অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একসময় পাম্পটির ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা সাবেক সেনা সদস্য আবুল হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, নুরুদ্দিন মোল্লা তার কাছে পাম্প বিক্রির আশ্বাস দিয়ে নগদ কোটি কোটি টাকা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পাম্প বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং পাওনা অর্থেরও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। এ বিষয়ে বর্তমানে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

এদিকে সরকারি নির্দেশনা ও প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে পাম্পটিতে দিন-রাত শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বড় লরিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ যানবাহনের চালকেরা প্রয়োজনীয় সময়ে গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

 

লরিতে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন পাম্পের বর্তমান ম্যানেজার শাহাবুদ্দিন। তার দাবি, বর্তমানে পাঁচটি শিল্পকারখানায় লরির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক কোটি টাকা করে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, পাম্পের সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকা অপর এক কর্মকর্তা আসাব উদ্দিন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে আইন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

একটি পাম্পের মালিক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা অগ্রিম নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন লঙ্ঘনকারী ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।