পর্যটন বিকাশের আশাবাদ
কোম্পানীগঞ্জে সাদা পাথরে বাপাউবো প্রকল্প পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) বাস্তবায়নাধীন নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকার ধলাই নদীতে চলমান তীর সংরক্ষণ ও খননকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজের বর্তমান অবস্থা, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন কর্মকারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মান্নান মনাফ, সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী শাহাবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল, উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, উপজেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য মানিক মিয়া ও সোনা মিয়া, মুজাফফর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাদা পাথর এলাকায় নৌ চলাচল সচল রাখতে ধারাবাহিকভাবে নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নদীর দুই পাড় থেকে উত্তোলিত বালু ও পাথরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্লক কিংবা অন্যান্য টেকসই কাঠামো ব্যবহার করে তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে ধলাই নদীতে নৌ চলাচল সহজতর হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যটন শিল্প এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাহাড়ি এই অঞ্চলে নদীর গতিপথ ও বন্যার ধরন পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের মতামত অনুযায়ী, খননকৃত বালু ও পাথরের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকেও নদী খনন ও তীর সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত তুলে ধরা হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী শাহাবুদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত ব্লক ও স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে নদী খননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অধিক কার্যকর হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় নৌ চলাচল স্বাভাবিক হবে, পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।




