আত্মহত্যা, সড়ক, রেল ও বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৯ প্রাণ

শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৯ প্রাণ
৭৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক কয়েকটি দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যার ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার সরাইল, কসবা, আখাউড়া ও নাসিরনগরে সংঘটিত এসব ঘটনায় জনমনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, আত্মহত্যা এবং ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণহানির এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বৈশামোড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে উল্টে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালান। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মো. আব্দুল বাতেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

একই দিন সকাল ১০টার দিকে কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে কবরস্থানে কবরের ওপর ছাউনি দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের সানাউল্লাহ (১৮) ও নুরু মিয়া (৪৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এলে তারা গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরুল আমিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

এদিকে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী মো. জাকির মিয়ার ছেলে মো. সাকিব মিয়া (১৯) পারিবারিক অভিমানের জেরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার ভোর ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকিব তার মা ও নানা দুধ মিয়ার সঙ্গে ছোট কুড়িপাইকা গ্রামে বসবাস করতেন এবং নানার দোকানে কাজ করতেন। কোনো বিষয় নিয়ে নানার বকাবকির পর অভিমান করে তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

অন্যদিকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কসবার তারাপুর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ধাক্কায় তার মরদেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে দুই বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে নয়জনের প্রাণহানির ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।