তদন্তে নেমেছে পুলিশ

পাবনায় জোড়া খুন : নিহত কলেজছাত্র ও সাবেক চরমপন্থী নেতা

মো: মনিরুজ্জামান মুন্না : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
পাবনায় জোড়া খুন : নিহত কলেজছাত্র ও সাবেক চরমপন্থী নেতা
৭৬

পাবনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সহিংস ঘটনায় এক কলেজছাত্র ও এক সাবেক চরমপন্থী নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ও সন্ধ্যায় পাবনা সদর উপজেলার পৃথক স্থানে এ দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পাবনা পৌর এলাকার মাসুম বাজারে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মনিরুল ইসলাম মনিরকে (২০) ছুরিকাঘাত করেন একই কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রাকিব (২২)। ঘটনার পর অভিযুক্ত রাকিব পাশের একটি পুকুরে লাফিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

 

গুরুতর আহত মনিরকে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মনির সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের মুন্নাফ প্রামাণিকের ছেলে। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যায় পাবনা শহরের লস্করপুর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১২ বছর বয়সী ছেলে রোহানকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা হোসেন আলী (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ছেলের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

 

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হোসেন আলী সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া জাফরাবাদ এলাকার মৃত ময়েন খার ছেলে।

 

স্বজনদের দাবি, হোসেন আলী একসময় নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন ‘সর্বহারা’ দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই।