সর্বস্ব হারিয়ে বিপাকে বহু পরিবার
কালিয়াকৈরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ১৮ কক্ষ ও ৩ দোকান
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮টি বসতঘরের কক্ষ ও ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও কয়েকটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোড়াপাম্প এলাকার পেছনের বাজারসংলগ্ন একটি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের টিনশেড ও সেমিপাকা বসতঘর এবং দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘুমন্ত মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং যার যা সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ১৮টি কক্ষ ও ৩টি দোকানের আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক মালামাল, নগদ অর্থ, কাপড়চোপড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আরফান আলী মন্টু বলেন, তাঁর দোকান ও বসতঘর দুটিই আগুনে পুড়ে গেছে। নগদ অর্থ, দোকানের মালামাল এবং ঘরের সব জিনিসপত্র মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলেও তিনি জানান।
আরেক ব্যবসায়ী জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার পণ্যসামগ্রী ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।
এক ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ বলেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে ঘর থেকে কোনো কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। জামাকাপড়, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে এখন আশ্রয় নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তিনি।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। অনেকেই খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এদিকে স্থানীয়রা এলাকায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন দ্রুত সংস্কার, নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু না হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করে জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

