ইসলামী দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
কুরবানীর নেসাব ও যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব
হাফেজ মাওলানা জাবেদ হোসাইন
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে কুরবানীর নেসাব ও যাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব— এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন হাফেজ মাওলানা জাবেদ হোসাইন।
তিনি বলেন, রূপার বারের বর্তমান (১৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) পাইকারি বাজারমূল্য অনুযায়ী কুরবানীর নেসাব তথা ৫২.৫ ভরি রূপা (৬১২.৩৬ গ্রাম)-এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি ভরি রূপার মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
তিনি আরও বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন যে মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
কুরবানীর নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলংকার, বসবাস ও সাংসারিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, ব্যবসায়িক পণ্য এবং অপ্রয়োজনীয় মূল্যবান আসবাবপত্র হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাফেজ মাওলানা জাবেদ হোসাইন বলেন, কারো মালিকানায় সাড়ে সাত ভরি বা তার বেশি স্বর্ণ (৮৭.৪৮ গ্রাম) থাকলে, তা স্বর্ণের বার, অলংকার, কয়েন বা অন্য যেকোনো রূপেই হোক না কেন, তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
একইভাবে, কারো কাছে সাড়ে বায়ান্ন ভরি বা তার বেশি রূপা (৬১২.৩৬ গ্রাম) থাকলেও তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। রূপা বার, অলংকার, কয়েন বা অন্যান্য রূপার সামগ্রী— সবই এ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, কারো কাছে পুরো সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা পুরো সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা না থাকলেও, যদি কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা, নগদ অর্থ বা ব্যবসার মালামালের সম্মিলিত মূল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

