দ্রুত বিচারের দাবি

নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচআরডিএসের মানববন্ধন

শেখ জুনায়েদ , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচআরডিএসের মানববন্ধন
৫৬

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচআরডিএসের মানববন্ধন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি (এইচআরডিএস) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

 

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।

 

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এইচআরডিএস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন সরকার।

 

এ সময় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দীপক চৌধুরী বাপ্পি, তরী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার, তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া ও সুশান্ত পাল, সামাজিক সংগঠন ‘কন্যা’র সভাপতি করবী চক্রবর্তী, নারী ও শিশু বিষয়ক সংগঠন ‘সুরক্ষা’র সভাপতি ফারজানা খানম জারমিন, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাবের হোসেন ও আরিফ বিল্লাহ আজিজি, হেল্পলাইন কমিউনিটি বাংলাদেশের পরিচালক আবু বক্কর মোহাম্মদ আইমান, ছাত্রনেতা উমর ফারুক এবং এইচআরডিএসের গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এসব অপরাধ দমনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে তা ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

 

তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সব ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান বক্তারা।

 

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, পরিবার ও সমাজ—সবাইকে একযোগে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

 

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, মানবাধিকারকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।