ঈদুল আজহায় পরিবেশ রক্ষায় করণীয়

কোরবানির বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনাই পারে দূষণ কমাতে – সাংবাদিক শেখ সেন্টু

শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
কোরবানির বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনাই পারে দূষণ কমাতে – সাংবাদিক শেখ সেন্টু
৭২

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা দেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি দেবেন। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পশুর রক্ত, গোবর, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ে।

 

বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ সেন্টু মনে করেন, সামান্য সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধই পারে ঈদের আনন্দকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ করা না হলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে এবং বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাট, গলির মুখ কিংবা ড্রেনের পাশে পশু কোরবানি না করে স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়া উচিত। এতে বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা সহজ হয় এবং পরিবেশও পরিষ্কার থাকে।

 

কোরবানির পরপরই পশুর রক্ত ও তরল বর্জ্য পানি দিয়ে পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, রক্ত যেন কোথাও জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিষ্কারের পর ওই স্থানে ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে দিলে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার অনেকটাই কমে যায়।

 

পশুর গোবর, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশ শক্ত প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আশপাশে ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা না থাকলে অন্তত তিন থেকে চার ফুট গভীর গর্ত করে সেগুলো মাটিচাপা দেওয়া উচিত। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং দুর্গন্ধও ছড়াবে না।

 

কোরবানির পশুর চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ বা বিক্রির ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কারণ দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা চামড়া থেকে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

 

ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়েও সতর্ক করে শেখ সেন্টু বলেন, বর্জ্য পরিষ্কারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি কাজ শেষে ভালোভাবে সাবান বা জীবাণুনাশক দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করতে হবে।

 

তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পৌরসভা বা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নাগরিক হিসেবে আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে ঈদের আনন্দ উদযাপন করা সম্ভব হবে।”