একনায়কতন্ত্র ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ভাঙনের মুখে রুমা উপজেলা প্রেসক্লাব একযোগে পদত্যাগের হিড়িক
বান্দরবানের রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্থিরতা ও গভীর সাংগঠনিক সংকট। প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে ‘একনায়কতন্ত্র’, ‘চরম স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘নোংরা রাজনীতিকীকরণের’ গুরুতর অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন তিনজন শীর্ষ সাংবাদিক ও কর্মকর্তা। এ ঘটনায় পাহাড়ের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মংহাইথুই মার্মা, কার্যনির্বাহী সদস্য অংবাসিং মার্মা এবং সাধারণ সদস্য উবাসিং মার্মা।
যৌথ পদত্যাগপত্রে তারা সভাপতির বিরুদ্ধে একক আধিপত্য বিস্তার, নির্বাচিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের মতামতকে অবজ্ঞা এবং গঠনতান্ত্রিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। তাদের দাবি, কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে প্রেসক্লাব পরিচালিত হচ্ছে।
পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের অধিকার ও ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান সভাপতির একক সিদ্ধান্ত ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নেই। আত্মসম্মান রক্ষার্থেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”
এর আগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চনুমং মার্মাও পদত্যাগ করেন। ফলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগের ঘটনায় রুমা প্রেসক্লাব এখন কার্যত নেতৃত্ব সংকট ও ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সদ্য পদত্যাগকারী সিনিয়র সাংবাদিক মংহাইথুই মার্মা বলেন, “রুমা প্রেসক্লাবে বর্তমানে চরম একনায়কতন্ত্র চলমান। সেখানে নোংরা রাজনীতি ঢুকে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোণঠাসা করে একটি পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এই কমিটি মানি না।”
তিনি অবিলম্বে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে ভেতরে ও বাইরে থাকা সব পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে নতুনভাবে নিরপেক্ষ প্রেসক্লাব গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে বলেও ইঙ্গিত দেন।
এদিকে, সভাপতির বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই শীর্ষ সংগঠনটি যদি ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে পাহাড়ে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সচেতন সাংবাদিক মহল অবিলম্বে রুমা প্রেসক্লাবের চলমান সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ তদন্ত, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাদার ঐক্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

