গাজীপুর রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় – মানববন্ধন
গাজীপুরে কর্মরত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মুখস্থ সড়কে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন খ্যাতনামা ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত শতাধিক রিপ্রেজেন্টেটিভ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে স্লোগান দেন।
ফারিয়ার গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি নাঈমুল ইসলাম নাঈমের অত্যন্ত দক্ষ সঞ্চালনায় আয়োজিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম। এ ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মো. মনিরুজ্জামান মনির। বক্তারা তাদের বক্তব্যে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের বর্তমান সামাজিক ও পেশাগত সংকটের চিত্র তুলে ধরেন এবং এর প্রতিকারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা সমাজের কোনো সাধারণ দালাল বা অশিক্ষিত গোষ্ঠী নয়; তারা দেশের উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী এবং কঠোর প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” তারা অভিযোগ করেন যে, দেশের ওষুধ শিল্প এবং জনস্বাস্থ্য খাতের চাকা সচল রাখতে তারা দিনরাত পরিশ্রম করলেও বিভিন্ন সময় তাদের নানা ধরণের হয়রানি, অপমানজনক আচরণ এবং চরম পেশাগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনকালে তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয় না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জিডিপিতে ওষুধ শিল্পের অবদান এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারা কেবল পণ্য বিপণন করেন না, বরং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন নতুন তথ্যাদি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে স্বাস্থ্যখাতকে সমৃদ্ধ করেন। তাই তাদের পেশাগত স্বীকৃতি, মর্যাদা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। পরিশেষে, নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, যদি অনতিবিলম্বে তাদের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে তারা আরও কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের এই আন্দোলন কেবল একটি পেশার মর্যাদা রক্ষার লড়াই নয়, বরং এটি শিক্ষিত যুবসমাজের কর্মক্ষেত্রে অধিকার নিশ্চিত করার সংগ্রাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজ যদি এই প্রশিক্ষিত জনশক্তির প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, তবেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্প আরও বেগবান হবে।

