তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কর বৃদ্ধির দাবি বগুড়ায় র‍্যালী ও সুপারিশ পেশ

মুহাম্মদ মতিন বগুড়া: প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কর বৃদ্ধির দাবি বগুড়ায় র‍্যালী ও সুপারিশ পেশ
৯৯

তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবিতে বগুড়ায় র‍্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী নারীজোট (তাবিনাজ) ও ভেনচার ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। র‍্যালী শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

সুপারিশ পেশকালে ভেনচার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ক্যাব বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুননেছা ফৌজিয়া এবং ক্যাব বগুড়ার সভাপতি লতিফা আকতার বানু বলেন, তামাক পণ্যের সহজলভ্যতা কমাতে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে উভয় ক্ষেত্রে ৮ টাকা সুনির্দিষ্ট কর, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৫৫ টাকা এবং গুলের মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া এসব পণ্যের ওপর প্রতি ১০ গ্রামে ২ টাকা সুনির্দিষ্ট কর এবং ৫৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তারা জানান, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হন। বর্তমান কর কাঠামো সংস্কার করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বি ডি এস-এর নির্বাহী পরিচালক দৌলত জামান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আহসান হাবিব খান, শিক্ষক সাকিনা আকতার, ধরিত্রী সমাজসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামিমা আখতার, নির্বাহী পরিচালক জুলেখা, পেস্ট-এর কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম নিরব এবং শিক্ষক জাভেদ রায়হানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা আগামী জাতীয় বাজেটে এসব সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।