আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি

দীর্ঘ ১৮ মাস পর জনি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

আবুল হাসনাত রাসেল, উত্তরা প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ ১৮ মাস পর জনি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২
৫৫

ঢাকার আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার প্রায় ১৮ মাস পর মামলার দুই আসামি মো. শাহ জাল সরকার ও মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহ জাল সরকার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ (পিপিএম)।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আশুলিয়া থানার মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় রংপুর জেলার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল ইসলাম জনিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার চার দিন পর পুকুরে অর্ধগলিত মরদেহ ভেসে উঠলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হলে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসেনকে।

 

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ২০২৬ আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গ্রেফতার হওয়া অপর আসামি ধামরাইয়ের বাসিন্দা মো. শাহ জাল সরকারের (২৮) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুলকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পিবিআই।

 

শাহ জাল সরকারের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, অবৈধ মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে জনিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন জনি ও তার দুই বন্ধু সোহাগ এবং রানা খান ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আসামিরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জনির দুই বন্ধু পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হলেও জনিকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

 

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ বলেন, সম্পূর্ণ ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ছায়া তদন্ত শুরু করেছিল। দীর্ঘ সময়ের নিরলস অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে মূল আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।