বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
ফ্যাসিস্ট শক্তি আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর হামলা করছে- পুলিশ কমিশনারগাজীপুরে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় পেশাদারিত্বের আহ্বান মহাপরিচালকেরগাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চল, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরাগাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, ৪৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণেবাঘাইছড়িতে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, দেয়ালিকা ও মাল্টিমিডিয়া ল্যাব উদ্বোধনগাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেলকসবায় বসতবাড়িতে অভিযান, ২৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিসে একযোগে ৫৬ জনের বদলি: বহাল সিন্ডি/কেট চক্রধুনটে ৭ নভেম্বরের গণজমায়েত সফল করতে মাঠে বিএনপি নেতারাসিংগাইরে গাঁজাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ডরাজধানীর উত্তরখানে ভূমি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি, ৪৫ হাজার টাকা দাবির অভিযোগভালুকায় স্কুলের নির্মাণসামগ্রী বিক্রির টাকায় প্রমোদভ্রমণ!ভালুকায় সাত বছরের শিশু ছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টায় আটক ১আশুলিয়া ধামসোনার ইউপি সচিব মাসুদ করিম বদলি: দুর্নীতি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে সাত কার্যদিবসে তদন্ত শেষরাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি সাজেকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ চলছে

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল
২১

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের কিছু এলাকায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের কর্মসূচি পরিচালিত হলেও অন্যান্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বোর্ডবাজার এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর বা সংঘাতময় ঘটনা ছাড়াই শ্রমিকদের আন্দোলন সম্পন্ন হলেও অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি বেশ থমথমে ছিল।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বোর্ডবাজার এলাকার রাবাব ফ্যাশন, ইউনিগিয়ার্স, ইউনিক ডিজাইন এবং রুপা গার্মেন্টসসহ সংলগ্ন কারখানাগুলোর শ্রমিকরা যখন আন্দোলন পরিচালনা করছিলেন, তখন মাঠ পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে অবস্থান নেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কারখানা সমূহের সার্বিক সম্পদ রক্ষা করা, কর্মরত শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম এড়িয়ে যেন শ্রমিকরা সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীনের পরিচালনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে পাহারায় ছিলেন। ফলে এই অংশে অত্যন্ত সুসংহত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হয়।
অন্যদিকে বোর্ডবাজারের দৃশ্যপট শান্ত থাকলেও গাজীপুরের অন্যান্য অংশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়। সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ি, ভুসির মিল এবং বাইপাস চৌরাস্তা এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে দফায় দফায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে আন্দোলনকারীদের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হঠাৎ এমন সংঘাতময় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ পথচারী, কারখানার শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের মধ্যেই মারাত্মক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, সাধারণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া এবং আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন যেন কোনোভাবেই কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষের স্বার্থে সহিংসতা, কারখানা ভাঙচুর বা রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই সার্বিক সংকট দূরীকরণে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
তবে গাজীপুরের এসব এলাকায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যকার সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মূল বা প্রকৃত কারণ কী ছিল, ঘটনায় কোনো আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা সর্বমোট কত রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানা যায়নি।
শিল্পনগরী গাজীপুরের সার্বিক স্থীতিশীলতা রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাকখাতের অবদান ধরে রাখতে সকল পক্ষকে শান্ত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
আরও পড়ুন
দৈনিক নববাণীর অনলাইন পোর্টালে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, জাতীয় অর্থনীতি এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ ও বস্তুনিষ্ঠ সব খবর মুহূর্তেই পড়তে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

ফ্যাসিস্ট শক্তি আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর হামলা করছে- পুলিশ কমিশনার

মোঃ নজরুল ইসলাম (গাজীপুর মহানগর) প্রতিনিধি:- প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিস্ট শক্তি আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর হামলা করছে- পুলিশ কমিশনার

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেছেন,চলমান ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলন বলা যায় না। একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি পুলিশকে লক্ষ্যবস্তু করে আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালাচ্ছে। শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে তারা পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন,বর্তমানে একটি অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সাধারণ শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে পড়ে না। আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্দোলন চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে পুলিশের সঙ্গে থেকে পোশাক শ্রমিকদের প্রতিহত করার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন,একটা সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা যেত। বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশের সঙ্গে থেকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী। রাষ্ট্রের জানমাল রক্ষা করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো সরকারি দলের নেতাকর্মী বা অন্য কেউ গুন্ডামি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে,পুলিশ সেটিকে কখনোই উৎসাহিত করে না। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে টানা কয়েকদিন শ্রমিকদের আন্দোলনের পর খোলা হয়েছে বেশিরভাগ পোশাক কারখানা। কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন কারখানা শ্রমিকরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশিরভাগ কারখানা খুলে দিয়েছে মালিকপক্ষ।  এসব কারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা।  কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সহিংস আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুরে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় পেশাদারিত্বের আহ্বান মহাপরিচালকের

ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুরঃ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় পেশাদারিত্বের আহ্বান মহাপরিচালকের

গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের পাঁচ হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনকালে সরকারি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব আনসার সদস্য ত্যাগ স্বীকার ও আহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতকারীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন মহাপরিচালক।

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকা আরও বাড়বে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আনসার সদস্য হিসেবে পরিচয় যেমন গৌরবের, তেমনি জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি এটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সততা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনের এ প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম হন কুমিল্লার কাজী মো. আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম হন নোয়াখালীর মো. ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ির মো. সাবিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কুচকাওয়াজের পর তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এ সময় মহাপরিচালক বলেন, দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবিলাতেও বাহিনীর সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্কের প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চল, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা

ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুরঃ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চল, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা

ন্যূনতম গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি ৩০হাজার বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক দিনের টানা বিক্ষোভ ও উত্তেজনার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবরোধ কিংবা অবস্থান কর্মসূচি চোখে পড়েনি। বরং দলবেঁধে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২৫ প্লাটুন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের ৫ প্লাটুন এবং এসআরবির ৮ প্লাটুন।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যাতে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং মানুষের জানমাল ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে বেতন ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক (৭) দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও একটি কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন এবং ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়। আহত হন কয়েকজন সংবাদকর্মীরাও।

পরিস্থিতির কারণে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানা সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করে। আন্দোলনের মধ্যে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের সময় মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক নামের এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা কমে আসার পাশাপাশি স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলেছে।

×