বলাৎকার প্রতিরোধে সোচ্চার হতে ইমামদের সরকারের নির্দেশনা

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
বলাৎকার প্রতিরোধে সোচ্চার হতে ইমামদের সরকারের নির্দেশনা
৫৮

মাদরাসার মতো পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বলাৎকার ও নানাবিধ অশালীন কর্মকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ জাতীয় গর্হিত কাজ পুরোপুরি রোধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ঐতিহ্যবাহী ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা স্পষ্ট করেন।
ধর্মমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মাদরাসার পবিত্রতা রক্ষা করা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। মাদরাসায় যাতে কোনোভাবেই এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ও নীতিগর্হিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সারা দেশের মসজিদগুলোর ইমাম সাহেবদের খুতবা ও আলোচনায় বিশেষ সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করার জোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইমামদের নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকার থেকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনের মূল পর্বে সারা দেশ থেকে আগত হাজারো ইমাম ও আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় ধর্মমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও বিদ্যমান সুদৃঢ় ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় তৎপর থাকে। কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানি বা গুজব ছড়িয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সব সময় সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য তিনি ইমাম সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অঙ্গনে অপরাধ দূরীকরণে আলেম সমাজের বিশেষ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে ইমামদের রয়েছে অসামান্য শ্রদ্ধা, আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা শোনেন এবং তা হৃদয় দিয়ে অনুসরণ করেন। তাই জুমার দিন মসজিদের খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস, বলাৎকারসহ সমাজ বিধ্বংসী নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে আলেমদের জোরালো এবং আপসহীন বক্তব্য প্রদান করতে হবে। ইমামদের জোরালো ভূমিকা সমাজ থেকে এ ধরনের অনৈতিক কাজ দূর করতে সবচেয়ে বড় নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
এদিকে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে নিজেদের নানা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও সংকটের কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইমামদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধর্মমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। একই সাথে প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মরত ইমামদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং পেশাগত মর্যাদা সুনিশ্চিত করাসহ বিদ্যমান নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন আলেম নেতৃবৃন্দ।
মাদরাসার সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থান এবং সমাজ গঠনে ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।