রোয়াংছড়িতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্কের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ হলরুমে রোয়াংছড়ি থানার উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এখিং মারমা, জেলা বিএনপির সদস্য ও রোয়াংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা, ১ নম্বর রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা, ৩ নম্বর আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা, সাচিংথুই মারমা, উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ্র মুকুল চৌধুরী এবং এসআই হামিদুর রহমান।
বক্তারা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে পুলিশ সার্ভিস ডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক এবং অনলাইন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার নারী, শিশু, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এ ডেস্কের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশে অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
আলোচনা সভায় মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যালয়, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজ, নারী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রতিটি পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন হয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈষম্য ও সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।




