নবরূপে ‘সুবলং ঝরণা’, হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের

রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
নবরূপে ‘সুবলং ঝরণা’, হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের
১৭৩

কাপ্তাই হ্রদ, সুউচ্চ পাহাড়, সবুজ অরণ্য ঘেরা বৈচিত্র্যময় পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ষড়ঋতুর ছয় রংয়ে  সেজে থাকে। যার পরতে পরতে দেখা মিলে চোখ জুড়ানো অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

শ্রাবণের ধারায় নবরূপে সেজেছে জেলার বরকল উপজেলার শিলার ডাক নামক স্থানে সুবলং ঝরণাটি, হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসে এ ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগে।

কয়েক দশক ধরে পাহাড়ি ঝর্ণাটি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই ঝর্ণার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে। ভরা বর্ষামৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে। পর্যটকদের ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে বরকল উপজেলা প্রশাসন কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে দিয়েছে।

রাঙামাটি সদর হতে সুবলং এর দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। বোটযোগে কাপ্তাই হ্রদ মাড়িয়ে তবেই সেই কাঙ্খিত সুবলং ঝর্ণায় পৌছাতে হবে। যাত্রাযোগে হ্রদের অপার সৌন্দর্য শান্তির পরশ বিলিয়ে দিবে পর্যটকদের।

সুবলং ঝর্ণায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল অবধি চলছে ইঞ্জিনচালিত বোটে পর্যটকদের যাওয়া-আসার ধারা। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে। কারো হাতে সেলফি স্টিক, কেউ ড্রোন উড়াচ্ছেন, কেউ আবার পাহাড়ি খাদ্য আস্বাদন করছেন ঝর্ণার পাশে বসে।

বেশিরভাগ পর্যটকই জানিয়েছেন, এই সুন্দর জায়গাগুলো টিকে থাকুক। যারা ঘুরতে আসেন তাদের সবার দায়িত্ব জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা, গাছপালা নষ্ট না করা, ঝর্ণায় অযথা নেমে বিপদ ডেকে না আনা। এগুলো জাতীয় সম্পদ, এগুলো রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম থেকে ‘সুবলং ঝরণা’ দেখতে আসা পর্যটক মিলি জাহান জানান, সুবলং ঝরনায় এবারই প্রথম এসেছি। আগে টিভি, ফেসবুকে দেখে যতটা মুগ্ধ হয়েছিলাম, বাস্তবে এসে দেখলাম এর সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেশি। একেবারে মন ছুঁয়ে যায়। ঝর্ণার পানি যেভাবে নেমে আসছে, আর পাশের সবুজ পাহাড় মনে হলো যেন ছবির ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেছি।”

রাঙামাটি শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মৌসুমী বণিক জানান, অনেক ভালো লাগছে এখানে এসে। ঝর্ণার অঝর ধারা দেখে মনটা জুড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য এতদিন কেন দেখি নাই নিজেকেই প্রশ্ন করেছি।

চট্টগ্রাম থেকে আগত আরেক পর্যটক আব্দুল সায়েম বলেন, এই ঝর্ণার পরিবেশটা একদমই মনোরম। আমার মন প্রফুল্ল হয়ে গেছে। বন্ধুদের বলবো জীবনে একবার হলেও এখানে ঘুরে আসা উচিত। এটা যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করে দেয়।”

ঝর্ণা দেখে ফেরার পথে ভুঁড়ি ভোজনের কাজটি শেষ করতে পারেন হ্রদের কিনারায় গড়ে উঠা পাহাড়ি সুস্বাদু খাবারের সমারোহ  যেকোন রেঁস্তোরায়।

ইট-পাথরের যান্ত্রীক জীবনের এক ঘেঁয়েমী দূর করতে যে কেউ ছুটে আসতে পারে অবলীলায়  সুবলং ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগে। শুধু সুবলং ঝর্ণা নয়; বরকল উপজেলায় ছোট-বড় মিলে আরও আটটি ঝর্ণা রয়েছে। যে ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে পর্যটকদের যেমন চোখ জুড়াবে তেমনি অবস্বাদ দূর করে দিবে এক নিমিষে।

সুবলং ঝর্ণা দেখতে জেলা শহরের পর্যটন, রির্জাভবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং রাঙামাটি ফিসারী ঘাট এলাকা থেকে নৌকা বোট কিংবা স্পিটবোটযোগে নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করে যাওয়া যাবে।

আগষ্ট ১৪, ২০২৬