টানা ঝড়বৃষ্টি, হড়পা বান এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত ভারতের হিমাচল প্রদেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং একাধিক ভূমিধসের ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের মেঘভাঙা বৃষ্টি ও বন্যায় হিমাচল প্রদেশে প্রায় ১৬ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগের কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রবল বর্ষণের ফলে কিন্নর জেলার চোলিং এলাকায় হড়পা বান দেখা দেয়। এর প্রভাবে শিমলা-রেকং পিও জাতীয় সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরে ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। ধসের সময় ওই সড়ক দিয়ে দুটি গাড়ি চলাচল করছিল। তবে চালকদের তাৎক্ষণিক সতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, রিব্বা এলাকায় হড়পা বানের কারণে রিব্বা-কান্দে সংযোগ সড়কে যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।
চলতি মৌসুমের দুর্যোগে হিমাচল প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৪৯টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে হিমাচলে ৩০ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কিন্নর জেলায় ১৮ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪২৩ শতাংশ বেশি। এছাড়া লাহুল-স্পিতিসহ হিমাচলের আরও কয়েকটি জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সুজন চক্রবর্তী, ভারত প্রতিনিধি :