প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আমেনা-বাকী স্কুলে,বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ , অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ অক্টোবর শনিবার দুপুরে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, এটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি গভীর চক্রান্ত হতে পারে।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেন নিজ কার্যালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, তার নাতনি এই প্রতিষ্ঠান থেকেই পড়ালেখা শেষ করে কৃতিত্বের সাথে ভালো ফলাফল অর্জন করে বের হয়েছে। মূলত এই প্রসঙ্গের জের ধরেই অধ্যক্ষ তাকে তার দপ্তরে ডেকে পাঠান। তিনি আরও জানান, দপ্তরে প্রবেশ করার পর তাকে প্রথমে বসতে বলা হয় এবং পরবর্তীতে অধ্যক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশ্ন করেন কেন তিনি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন। মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেন বলেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে চান তিনি ঠিক কী ধরনের মন্তব্য করেছেন। এতে আরও উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষ ইংরেজিতে কিছু একটা বলে নিজের চেয়ার ছেড়ে তেড়ে আসেন এবং তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এই মারধরের সময় প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম এবং সহকারী শিক্ষক রফিউর রহমান মণ্ডল তাকে বুকে ধাক্কা দিয়ে এবং ঘাড় ধরে অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি ডা. আমজাদ এবং সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফোরামকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ বিনয় কুমার রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, গত শনিবার ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার বিষয়ে তাদের কাছে বিন্দুমাত্র কোনো তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। উপাধ্যক্ষ আরও জোরালোভাবে দাবি করেন, অধ্যক্ষ মহোদয় কখনোই এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তির সাথে এ ধরনের অশোঁভন আচরণ করতে পারেন না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেনের মতো একজন প্রবীণ ও সম্মানিত নাগরিক কেন এমন গুরুতর অভিযোগ তুললেন—এমন প্রশ্নের জবাবে উপাধ্যক্ষ বিনয় কুমার রায় জানান, এটি নিশ্চিতভাবেই কোনো বিশেষ মহলের চক্রান্ত হতে পারে। অন্যথায় এমন অমূলক ঘটনা ঘটার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। কোথা থেকে এবং কেন এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা তাদের কাছে পুরোপুরি বোধগম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেনের ছেলে লিটন তার পিতার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত শনিবার দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও তার বাবা অত্যন্ত সম্মানের খাতিরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাসায় এসে জানাননি। পরবর্তীতে তার স্ত্রী বাবার গালের বামপাশে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পান এবং বহুবার জিজ্ঞাসাবাদ করার পরও তিনি লজ্জায় ও সম্মানের ভয়ে কিছু বলতে চাননি। রোববার স্কুল থেকে এক শিক্ষক তাকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান এবং অধ্যক্ষের মাধ্যমে তার বাবা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যক্ষের কাছে এই বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতে গেলে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি এই বর্বরোচিত ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি বা ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাওয়া হলেও তা দেখাতে তারা স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. আমজাদ হোসেন ভুক্তভোগীকে চুপ থাকতে এবং বিষয়টি যেন বাইরে প্রকাশ না পায়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন বলেও পরিবারটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গায়ে হাত তোলা এবং তাকে লাঞ্ছিত করার মতো এমন একটি সংবেদনশীল ঘটনা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনার সঠিক সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবীণ এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষার্থে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন