গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কামারজুরী দৌলতপুর এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধের জেরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় নির্দিষ্ট আসামিদের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অনভিপ্রেত ও আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১. মো. ফজল (৪৫), ২. মো. আলম (৪২), ৩. মো. সোহেল (৩৮), ৪. আ. রউফ (৫৫), ৫. মোসাঃ রেণুজা (৩৭)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ইউসুফ আলীর ছেলে আমির আলী জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘকাল ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, সর্বমোট সাড়ে ৬ কাঠা জমির মধ্যে ইতিমধ্যে সোয়া ৪ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে কারখানা ও পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন অভিযুক্তরা। এরপর অবশিষ্ট সোয়া ২ কাঠা জমিতে অবস্থিত তাঁদের পৈতৃক বাড়িসহ পুরো জায়গাটি দখলের জন্য নতুন করে পায়তারা শুরু করা হয়।
ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত ফজল, আলম, সোহেল, আ. রউফ ও রেণুজার নেতৃত্বে তাঁদের ভাড়াটে লোকজন দলবদ্ধ হয়ে অবশিষ্ট জমিতে অবস্থিত বসতবাড়িতে চড়াও হন এবং নির্বিচারে ভাঙচুর চালান। এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিরীহ পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। আকস্মিক এই হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
হামলায় আহতদের মধ্যে ইউসুফ আলীর ছেলে আমির হোসেন (৫০) এবং মেয়ে রহিমা বেগম (৩৫) বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে নানা জটিলতা চললেও তাঁরা স্থানীয়ভাবে এর কোনো রক্তপাতহীন ও আইনগত সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অতর্কিত এই হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এই পৈশাচিক হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ আলী নিজে বাদী হয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় থানা পুলিশ অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং গাছা থানার ওসি জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এই হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের স্বার্থে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া মাত্রই তা এই প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পরিশেষে, ভুক্তভোগী পরিবারটি তাঁদের পৈতৃক জমির বৈধ মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত এই দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের একটি দ্রুত, আইনানুগ ও স্থায়ী নিষ্পত্তি কামনা করেছে।
গাজীপুরের গাছায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নির্দিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিরীহ মানুষের ওপর এমন অনধিকার চর্চা ও সহিংসতার সঠিক বিচার দাবি করছেন এলাকাবাসী। পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ন্যায়বিচার উপহার দেওয়া হবে—এটাই এখন সকলের একমাত্র প্রত্যাশা।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার