মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার জাকিয়া আক্তার নামের (১৬ বছর ১১ মাস) একটি মেয়ে গত ৪দিন ধরে চাচিতারা গ্রামের বাদশা মিয়ার বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি- তিনি বাদশা মিয়ার ছোট ছেলে রাফি আহম্মেদ শিপনের স্ত্রী। আরএই নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে দারুন কৌতুহল।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, জাকিয়া আক্তার একই উপজেলার চক-টেগরি গ্রামে মহিদুর রহমানের মেয়ে। সে বাদশা মিয়ার ছেলে রাফি আহম্মে শিপনকে (১৯) ভালবেসে বিবাহ করে অত্র বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছেন এবং শ্বশুড়বাড়ীতে থাকতে চান।
এ ব্যাপারে জাকিয়া আক্তার জানান, আমি রাফি আহম্মেদ শিপনকে ভালবাসি প্রায় দুই বছর। গত ২০শে অক্টোবর আমরা উভয়েই আইনি প্রক্রিযায় মানিকগঞ্জ আদালতে কোর্টে মেরেজ করেছি। সেই সুবাদে আমি শিপনের স্ত্রী। আমি আমার স্বামীর সাথে সংসার করার জন্যই শ্বশুড় বাড়ীতে এসেছি।
তিনি অত্যন্ত দুঃখ করে বলেন, আমার বাবা-মা স্বামীকে মেনে নিতে পারছেন না। তারা চাচ্ছেন আমি যেন স্বামীর ভাত না খাই। এই জন্য তারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে আমাকে ও আমার স্বামীকে নাযেহালের চেষ্টা করছেন। পুলিশের ভয়ে আমার স্বামী আমার কাছে আসতে পারছে না। এরই মধ্যে গত ২২শে অক্টোবর তারিখে তারা সাটুরিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় জোড় পূবর্ক আমাকে ধরে নিয়ে দুইদিন বাড়ীতে আটকিয়ে রাখেন। ২৪ আক্টোর, রোজ শনিবার আমি কৌশলে ছাড়া পেয়ে পুনরায় আমার স্বামী বাড়ীতে চলে এসেছি।
তিনি আরো জানান, আমি শিপনকে অত্যন্ত ভালবাসি। তাকে ছাড়া আমি বাচবোঁ না। আমাদের বিছিন্ন করার যে কোন হীনচেষ্টায়- যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তার জন্য আমার বাবা-মা দায়ী থাকবেন। বিয়ষটি নিয়ে জাকিয়া আক্তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইলে ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিপ করেন নাই।
তবে এই ব্যাপারে বাদশা মিয়া জানান, আমি গরীব মানুষ। আমার ছেলে শিপনকে মেয়েটি ভালবাসে। ইতিমধ্যে তারা কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করেছে। শুনেছি, মেয়ের বয়স ১৬ বছর ১১ মাস। সাবালক হতে আর মাত্র ১ বছর বাকি আছে। এই সুত্রধরেই মেয়ের বাবা-মা মেয়ের ভাত না খাওয়াতে নানা অজুহাত খুচ্ছেন, থানা-পুলিশ করছেন। আমি তাদের কাছে বিনিত অনুরোধ রাখবো-তারা যেন বিয়েটি মানবিক ভাবে মেনে নিয়ে ছেলে-মেয়ে উভয়ের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ