প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

টঙ্গীতে জমা গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ একই পরিবারের ৩ জন আশঙ্কাজনক

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের মুদাফা এলাকায় রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের তিনজন মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ প্রত্যেকেরই শরীরের বিপুল অংশ পুড়ে গেছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। বর্তমানে তাঁরা রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেটসংলগ্ন মুদাফা এলাকার একটি আবাসিক বাসায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। গৃহস্থালির প্রাত্যহিক কাজের অংশ হিসেবে সকালে রান্নার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে বন্ধ ঘরের মধ্যে গ্যাস লিকেজ হয়ে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস জমা হয়েছিল। ফলে আগুন জ্বালানোর মুহূর্তেই জমে থাকা গ্যাসে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে থাকা সদস্যরা দগ্ধ হন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মো. লালচান (৬০), তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৫০) এবং তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিসা আক্তার। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাঁদের উদ্ধারকাজে হাত দেন। পরবর্তীতে দগ্ধ তিনজনকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে মো. লালচানের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ, মেয়ে তানিসার ৮৬ শতাংশ এবং স্ত্রী নাছিমা বেগমের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাঁদের তিনজনের শরীরেরই সিংহভাগ অংশ দগ্ধ হওয়ায় শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ও বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। তাঁদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ প্রাণপণ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা ও বিস্তারিত নিশ্চিত করে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, সকালে রান্নার প্রস্তুতির সময় পূর্ব থেকে জমা থাকা গ্যাস লিকেজ থেকে ঘরের ভেতর হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের উদ্ধারের পর উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যে উঠে এসেছে যে, ঘরে জমে থাকা গ্যাসের লিকেজ থেকেই মূলত এই আগুন ও বিস্ফোরণের প্রপাত ঘটেছিল। তবে উক্ত গ্যাসের সুনির্দিষ্ট উৎস কী ছিল কিংবা লিকেজের মূল প্রকৃত কারণ কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্তকারী দল বিষয়টি গভীরভাবে ক্ষতিয়ে দেখছে।
এদিকে ঘনবসতিপূর্ণ টঙ্গী ও মুদাফা এলাকায় এ ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়িতে এমন বিপর্যয় এড়াতে বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—যদি কখনো ঘরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায়, তবে কোনো অবস্থাতেই আগুন জ্বালানো যাবে না। এমনকি বিদ্যুৎ চালিত কোনো সুইচ অন বা অফ করা থেকেও পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে। তৎক্ষণাৎ ঘরের জানালা-দরজা খুলে দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাপ্রদানকারী সংস্থায় যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহারে সামান্য অসাবধানতা কিংবা সচেতনতার অভাব মুহূর্তেই বড় ধরনের ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে। টঙ্গীর মুদাফার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি আমাদের নিরাপত্তা সচেতনতার বিষয়টি আবারও কঠোরভাবে মনে করিয়ে দেয়। গ্যাস লিকেজের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দগ্ধদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় স্থানীয় প্রাশসন ও চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন