প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বদদুয়ারা ফরেস্ট এলাকায় নামমাত্র মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: মোঃ আসমত হোসেন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বদদুয়ারা ফরেস্টর এলাকায় একটি চক্র বন বিভাগের জায়গা দখল ও বিক্রি করেন। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থে বন বিভাগের জায়গা বিক্রি করে থাকেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে কিছু গরিব ও অসহায় পরিবারকে নামমাত্র মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বদদুয়ারা ডেপুটি রেঞ্জার ফজলুল কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদদুয়ারা ফরেস্টর এলাকার ডেপুটি রেঞ্জার এর সহযোগিতায় কিছু প্রভাবশালী ও কুচক্রী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে নানা উপায়ে হয়রানি করে আসছে। বিশেষ করে এলাকার প্রান্তিক, গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো তাদের প্রধান শিকারে পরিণত হয়েছে। বনের জায়গা বা অন্যান্য অজুহাতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার ভয় দেখিয়ে এসব অসহায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেকের ভিটেমাটি রক্ষায় বা মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে সর্বস্বান্ত হয়ে ঋণ করে এই চক্রের দাবিকৃত টাকা দিতে হচ্ছে।

বন বিভাগের জায়গা দখল ও জায়গা বিক্রির মূলহোতা রোজিনা আক্তার জানান, বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিলেই কোন সমস্যা হয় না কারণ তাদেরকে টাকা দিলে সব সমস্যা সমাধান হয়। এবং আমাদের সিন্ডিকেট অনেক বড় তাই আমাদেরকে প্রশাসনে কিছু করতে পারবে না।

ভুক্তভোগী একাধিক পরিবার অভিযোগ করে জানায়, সাতকানিয়ার বদদোয়ারার বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার এই রেন্জে আসার পর থেকে বন বিভাগের জায়গা বিক্রির মহোৎসব চালাচ্ছে। চক্রটির ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় এক ধরণের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে আরও বড় মিথ্যা মামলা বা হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী মো নুরু চৌকিদার জানান, আমার কাছে একলক্ষ টাকা দাবি করেছে আমি সাবেক সবুর মেম্বার ও নার্সারির মালিক ওসমান দের সাথে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি বদদোয়ার ডেপুটি রেঞ্জার ফজলুর কাদের এর সাথে থাকা বন বিভাগের কর্মচারী ফরিদ মাঝির হাতে। আবার টাকা দেওয়া সত্যতা জানতে বদদোয়ারা বন বিভাগে গিয়ে ফরিদ মাঝির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ডেপুটি রেঞ্জার সহ সাথে ছিল আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে নুরু চৌকিদার। নুরু চৌকিদার আরও জানান, আমার মতো ৮ জনের নামে লাল নোটিশ দিয়ে সবার কাজ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফরেস্টর এলাকার মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের অনৈতিক ও চাঁদাবাজির কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গরিবের পেটে লাথি মেরে যারা অবৈধ সম্পদ গড়ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন