নদী রক্ষার আইন যেন কাগজেই বন্দি! রাতের আঁধারে নদীর পাড় কেটে চলছে বালু উত্তোলন। অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা অনুমোদন ছাড়াই মরা চেলা নদীর বুক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ ঘনফুট বালু। এবার সেই বালু লুটের ঘটনায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের মরা চেলা বা সোনালী চেলা নদীর সংরক্ষিত শ্রীপুর মৌজার অন্তর্ভুক্ত সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকার নদীর পাড় থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। গত ৫ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগের ভয়াবহতা আরও বড়। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
অর্থাৎ রাতের অন্ধকারে নদীর পাড় কেটে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বালু সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে এতে নদী, তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬(১), ১২ এবং ১৫(১) ধারায় দোয়ারাবাজার থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক জানান, ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামিরা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নদীর পাড় কেটে রাতের আঁধারে যদি সত্যিই প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে কারা দেখেছে, কারা দেখেনি? আর পাঁচ কোটি টাকার এই বালু উত্তোলনের পেছনে শুধু শ্রমিক, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনো চক্র? মরা চেলার পাড় কাটা থেকে বালু পরিবহন, উত্তোলনের অনুমতি, ইজারা সীমানা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে এখনই প্রয়োজন আরও গভীর অনুসন্ধান।

অমিত তালুকদার, সুনামগঞ্জ