প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

তালাবদ্ধ ঘরে আগুন, অগ্নিদগ্ধ কলেজছাত্রের মৃ/ত্যু—শ্রীপুরে রহস্য

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিরোধপূর্ণ জমির একটি তালাবদ্ধ জরাজীর্ণ টিনের ঘর থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র দেলোয়ার হোসেন (১৮) মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর রবিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দেলোয়ার জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের মোহাম্মদ বুদু মিয়ার ছেলে। বাবার সঙ্গে তিনি শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁটিয়াবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, সাঁটিয়াবাড়ি এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে হুরমত আলী ও ফাইজুদ্দীন পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে পাহারার জন্য একটি পুরোনো টিনশেড ঘর রয়েছে। ঘরটি সাধারণত দিনের বেলায় তালাবদ্ধ রাখা হতো।

শনিবার রাতে হঠাৎ ওই ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে যান। এ সময় ভেতর থেকে কান্না ও চিৎকারের শব্দ শুনতে পান তারা। পরে দরজা ভেঙে দেলোয়ারকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।

পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সাধারণত তালাবদ্ধ থাকা ওই ঘরের ভেতরে দেলোয়ার কীভাবে গেলেন? আর কীভাবেই বা সেখানে আগুনের সূত্রপাত হলো? এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রতিবেশী ইসমাঈল হোসেন বলেন, শনিবার রাতে ঘরটিতে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে যান। তখন ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যায়। পরে দরজা ভেঙে দেলোয়ারকে উদ্ধার করা হয়। তিনি কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, তা তখন স্পষ্ট ছিল না।

জমির মালিক শেখ হুরমত আলী বলেন, ফাইজুদ্দীনদের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। জমিটি পাহারা দেওয়ার জন্য সেখানে টিনশেড ঘরটি করা হয়েছে। তিনি সাধারণত রাতে সেখানে থাকেন এবং দিনের বেলায় ঘরটি তালাবদ্ধ থাকে।

আগুনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেলোয়ারকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তবে দেলোয়ারকে তিনি চেনেন না এবং কীভাবে তিনি ঘরে ঢুকেছেন বা আগুন কীভাবে লেগেছে, তা জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

নিহতের বাবা মোহাম্মদ বুদু মিয়া বলেন, তার ছেলে কীভাবে ওই ঘরে গেল, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত পেরোতেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ বলছে, দেলোয়ার কীভাবে ওই ঘরে গেলেন এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আগুন লাগার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন