প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

একজন সংগীত প্রেমী মানুষের বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিন উপজেলা প্রতিনিধি আখাউড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত আখাউড়া উপজেলার আখাউড়া পৌরসভায় অবস্থিত নারায়ণপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও নারায়ণপুর এর সম্মানি ও সুপরিচিত প্রবীণ ব্যক্তি জনাব মোঃ আবুল ফারুক বকুলের বর্ণনাট্য জীবনের গল্প। তিনি ছাত্র জীবন শেষে জীবিকার সন্ধানে ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ছুটে গিয়েছিলেন সুদূর প্রবাসে। আবার ১৯৯৭ সালে প্রজাপতি মার্কা নিয়ে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পদে।

তবে উনবিংশ শতাব্দীর কৈশোরে প্রবাসের চাকচিক্য, আধুনিক জীবন আর কৃত্রিম ব্যস্ততা ছেড়ে দেশের মাটির গন্ধ, চেনা মানুষ আর সাদামাটা মৌলিক জীবনে ফিরে এসে নিজের গল্প গুলো সাজিয়েছেন নিজের মতো। যে গভীর অনুভূতি ছিল তার হৃদয়, সবটুকুই যেন ফুটিয়ে তুলেছেন তার আত্মতৃপ্তি আর ভালোবাসা দিয়ে। জীবনের পড়তে পড়তে রেখেছেন অগণিত মানুষের ভালোবাসা আর মমতার মহা চিহ্ন।

কখনো কাস্তি হাতে আউশের খেতে, কখনো কাঁদা জলে মিশেছেন কিষান কিষানীর সাথে। রাজনীতির মঞ্চ থেকে ফসলের মাঠে। আবার রাজনীতির বৈচিত্র্যময় ও সংঘাতমুখর মঞ্চ ছেড়ে সুরের ভুবনে বা সঙ্গীত সাধনায় আত্মনিয়োগ করার গল্পটি যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অনুপ্রেরণাদায়ক। সাধারণত ক্ষমতা, জনসভা আর নীতি-নির্ধারণের ব্যস্ত জগৎ থেকে বের হয়ে কোনো মানুষের শিল্প বা সঙ্গীতের মতো একাত্ম সাধনায় লিপ্ত হওয়া বেশ বিরল এক রূপান্তর। তিনি আমাদের নারায়ণপুর এর একমাত্র গুণী ব্যক্তি, জনাব মোঃ আবুল ফারুক (বকুল) যার ব্যতিক্রমী জীবনের গল্প একদিনে লিখে শেষ করার নয়।

শরতের মিষ্টি সকালে। পুব আকাশে সবেমাত্র সূর্যের লাল আভা ফুটে উঠে যখন। ঠিক তখনই যেন কখনো বারান্দায় কখনো নিজের শোয়ার ঘরে আবার কখনো সোফার ওপর বসে পড়েন হারমোনিয়াম কিংবা ব্যাঞ্জো নিয়ে। আখাউড়া নারায়ণপুর এর প্রবীণ সংগীত প্রেমি আমাদের আবুল ফারুক (বকুল) যার বয়স বর্তমানে ৬৫ চলমান, কিন্তু সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এখনো এক তরুণ যুবকের মতোই সতেজ। তাঁর সামনে রাখা একটি পুরোনো কাঠের তৈরি হারমোনিয়াম ও একটি ব্যাঞ্জো। এটি শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তাঁর সুখ-দুঃখের একমাত্র সাক্ষী। আবুল ফারুক বকুল এর দিন শুরু হয় এই হারমোনিয়াম ব্যাঞ্জোর ওপর আঙুল ছুঁইয়ে। তিনি পেশায় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বর্তমানে তিনি আখাউড়া থানা বিএনপি ভাইস প্রেসিডেন্ট। সংসার জীবনে ওনার রয়েছে দুইজন ছেলে একজন কন্যা সন্তান। কিন্তু মনে-প্রাণে তিনি একজন খাঁটি সংগীতসাধক। তাঁর কাছে সংগীত কোনো উপার্জনের মাধ্যম নয়, এটি ঈশ্বরের আরাধনা এবং আত্মার খোরাক।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন