প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রাস্তা নির্মাণে বাধা: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে উপজেলা চত্বরে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিলের দৃশ্য।
এসএম অপু, স্টাফ রিপোর্টার

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণকাজে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধা প্রদানের গুরুতর অভিযোগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ নজিরবিহীন ঝাড়ু মিছিল করেছেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল ঝাড়ু মিছিলটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন অধিকারবঞ্চিত স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এমন অভাবনীয় প্রতিবাদ ও ঝাড়ু মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র উপজেলাজুড়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের অন্তর্গত উত্তর চানপুর (রতনদিয়া) এলাকায় ২১০০ ফুট দীর্ঘ একটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই নির্মাণকাজে হঠাৎ করেই অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা প্রদান করা হয়। রাস্তাটির কাজ থমকে যাওয়ায় এবং নির্মাণে বিঘ্ন ঘটায় সরাসরি চরম ভোগান্তির ও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী স্থানীয় ৪টি এলাকার বিপুলসংখ্যক জনবসতি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী জনসাধারণের সুস্পষ্ট ও জোরালো দাবি, বর্তমান চালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদসহ প্রভাবশালী একটি মহল ব্যক্তিস্বার্থে এই জনকল্যাণমূলক রাস্তা নির্মাণের কাজে ক্রমাগত বাধা ও বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। তাদের এই হীন পদক্ষেপের কারণে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি পাকা বা চলাচলের উপযোগী রাস্তার অভাবে স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন যাতায়াতে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমনকি সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে, যার ফলে বর্ষা বা বৃষ্টির দিনে ওই এলাকার মানুষের যাতায়াত একেবারে দুঃসাধ্য ও চরম কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের হাসপাতালেও নেওয়া যায় না।

উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনকারীরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, এলাকার যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এবং সরকারি বরাদ্দে হওয়া কাজে কোনো জনপ্রতিনিধির স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া হবে না। তারা পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে অতিদ্রুত রাস্তা নির্মাণের বাধা অপসারণ করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদের সাথে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার কোনো মন্তব্য বা পাত্তা পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত এই সমস্যা ও জনরোষের বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রেজাউল করিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রাস্তা নির্মাণে বাধা এবং স্থানীয়দের বিক্ষোভের বিষয়ে আমি সম্পূর্ণরূপে অবগত আছি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার একটি যৌক্তিক সমাধান করার চেষ্টা করছি।” অন্যদিকে, সমগ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আক্তার মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে জানান, “রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দেওয়ার যে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, প্রশাসনিকভাবে তা ইতিমধ্যে সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।”

জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে খোদ জনগণেরই ঝাড়ু মিছিল করার এই ঘটনা গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছার কাছে জিম্মি থাকতে পারে না। উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং আটকে থাকা ২১০০ ফুটের রাস্তাটির নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন