প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

একটু বৃষ্টিতেই থমকে যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, দিশেহারা পথচারী ও যাত্রীরা

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মালেকের বাড়ি থেকে বাসন রোড পর্যন্ত অংশে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পথচারীদের দুর্ভোগের দৃশ্য।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার

বৃষ্টির পানিতে গাজীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মালেকের বাড়ি থেকে শুরু করে বাসন রোড পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এক চরম জনদুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির এই অংশটি যেন পরিণত হয় পানিবদ্ধ এক ডোবায়। এর ফলে প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ পথচারী, দূরপাল্লা ও লোকাল পরিবহনের অসংখ্য যাত্রী এবং মহাসড়কের দুই পাশে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই জলজট ও যানজটের সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক ও করুণ চিত্র। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মতো ব্যস্ততম ও অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত একটি সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো সুগম পথ বা ফুটপাত না থাকায় অনেক পথচারীকে বাধ্য হয়েই সেই জমে থাকা নোংরা ও কাদা-পানির মধ্য দিয়েই চরম ঝুঁকি ও বিরক্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের ভোগান্তি বর্ণনাতীত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, যানবাহনগুলোও এই জমে থাকা জলরাশির কারণে স্বাভাবিক ও নিরাপদ গতিতে চলতে পারছে না, যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট এবং যাত্রীদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার এই বিরূপ প্রভাব কেবল সড়কের যানবাহনের ওপরই পড়ছে না, এটি স্থানীয় অর্থনীতির গতিও মন্থর করে দিচ্ছে। মহাসড়কের ঠিক পাশেই গড়ে ওঠা বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের সামনে বৃষ্টির পানি থৈ থৈ করছে। কোনো কোনো স্থানে পানি উপচে দোকানের ভেতরে প্রবেশের উপক্রম হয়েছে। দোকানের সামনে দীর্ঘক্ষণ নোংরা পানি জমে থাকায় ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে ও কেনাকাটা করতে আসতে পারছেন না। যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন বেচাকেনা ও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মূল কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তাদের সুস্পষ্ট অভিযোগ হলো, এই মহাসড়ক ও এর আশেপাশের বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্কাশনের জন্য পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যে কারণে আকাশে মেঘ জমলে বা সামান্য একটু বৃষ্টিপাত হলেই মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে পানি জমে যায় এবং তা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়। এতে করে একদিকে যেমন মহাসড়কের পিচঢালা পথ দ্রুত নষ্ট হয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি পায়ে হাঁটা পথচারী ও যাত্রীদের যাতায়াতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে বৃষ্টির দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মালেকের বাড়ি থেকে বাসন রোড পর্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে এই একই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের এখন একটাই দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই মহাসড়ক পরিদর্শনে আসেন এবং জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মহাসড়কের এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা চিরতরে নিরসন করে একটি কার্যকর ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন