প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রাণীশংকৈলে পূর্বশত্রুতার জেরে বিষ প্রয়োগে কৃষকের ধানক্ষেত ধ্বংস, থানায় অভিযোগ

রাণীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও বিচারাধীন জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের রোপনকৃত ধানক্ষেতে অমানবিক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে জঙ্গল মারা বিষ বা আগাছানাশক স্প্রে করে ওই কৃষকের ১ একর ১৬ শতাংশ জমির উঠতি ফসল সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকের প্রায় এক লাখ বিশ হাজার টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। নিজের ঘাম ঝরানো ফসলের এমন করুণ পরিণতি দেখে দিশেহারা ওই কৃষক ন্যায়বিচারের আশায় স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ওই এলাকার সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং লেহেম্বা ইউনিয়নের চাপর পার্বতীপুর এলাকার বাসিন্দা কৃষক মমতাজ আলীর সঙ্গে তার আপন চাচাতো ভাইদের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মাত্র ৯ শতক জমির মালিকানা নিয়ে মমতাজ আলীর সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন চোখা, আতাউর রহমান, আব্দুল হাকিম এবং আমিনুল ইসলামের চরম দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই বিরোধের জেরে বিজ্ঞ আদালতেও একটি মামলা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী মমতাজ আলীর দৃঢ় দাবি, আদালতে চলমান ওই মামলার ক্ষোভ থেকেই প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইয়েরা প্রতিশোধ নিতে এই ঘৃণ্য কাজ করেছেন। তারা ওই ৯ শতক জমির আক্রোশ মেটাতে মমতাজ আলীর মালিকানাধীন অন্য ১ একর ১৬ শতাংশ জমির রোপনকৃত ধানে বিষ প্রয়োগ করে তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করেছেন।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে কৃষক মমতাজ আলী ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি তার ওই ১ একর ১৬ শতাংশ জমির ধানক্ষেত সম্পূর্ণ পরিচর্যা করে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। কিন্তু পরের দিন, অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি যখন পুনরায় ওই জমিতে যান, তখন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি দেখতে পান, পুরো রোপনকৃত ধানক্ষেত বিষের প্রতিক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ছে। ধানের সবুজ পাতা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে আসছে এবং পুরো ক্ষেত যেন আগুনে জ্বলে শুকিয়ে গেছে। তার দাবি, রাতের আঁধারের সুযোগ নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই এই জঙ্গল মারা বিষ স্প্রে করার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

কৃষকের এমন ফসলের ক্ষতিতে স্থানীয়রাও গভীরভাবে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাপুর এলাকার তসলিম ও মতিউরসহ আরও কয়েকজন জানান, কৃষিপ্রধান অঞ্চলে ফসলের সঙ্গে এমন শত্রুতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক একটি কাজ। এই ঘটনার ফলে কৃষক মমতাজ আলী আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আতাউর রহমান চোখা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো ফসল নষ্ট করেননি বলে জোর দাবি জানান।

কৃষকের ঘামে ফলানো ফসল জাতীয় সম্পদ। সেই ফসলের ওপর বিষ প্রয়োগ করে ধ্বংস করা কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কৃষকের লিখিত অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে ফসলের ওপর এমন নিষ্ঠুর আঘাত হানার সাহস কেউ পাবে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন