প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

আশুলিয়ায় রিকশাচালককে কু/পি/য়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা

সাভার (আশুলিয়া) প্রতিনিধি: মোঃ বাবুল হোসেন

ঢাকার সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় এক অসহায় রিকশাচালককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। রাতের অন্ধকারে ঘটা এই অভাবনীয় হামলায় ওই চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পরপরই স্থানীয় সচেতন জনতা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসে সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারী ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে আটককৃত ওই আক্রমণকারীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত রিকশাচালক বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খেটে খাওয়া একজন শ্রমিকের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আশুলিয়ার সরকার মার্কেট এলাকার নারী ও শিশু হাসপাতালের ঠিক সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাটি সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, এই হামলার পেছনের ঘটনাটি ছিল বেশ চমকপ্রদ। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি স্থানীয় একটি ডাবের দোকানে যান। সেখানে তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দুটি ডাব খান। এরপর আচমকাই কারো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ডাবের দোকান থেকে ডাব কাটার একটি ধারালো দা হাতে তুলে নেন। এরপর দ্রুতগতিতে তিনি সেখানে অবস্থানরত এক রিকশাচালকের দিকে তেড়ে যান এবং সম্পূর্ণ অতর্কিতভাবে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালান।

ধারালো অস্ত্রের এই আকস্মিক হামলায় রিকশাচালক নিজেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেননি। হামলাকারীর ধারালো দায়ের কোপ ওই রিকশাচালকের পায়ে মারাত্মকভাবে আঘাত হানে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে আক্রমণকারীকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন এবং তাকে দা-সহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। জনতা যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে রিকশাচালকের প্রাণহানির মতো আরও বড় কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত বলে মনে করছেন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা।

হামলাকারীকে আটকে রাখার পর স্থানীয়রা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন। খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তালেব দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি স্থানীয় জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে নিজ হেফাজতে নেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আশুলিয়া থানায় নিয়ে যান। পুলিশ বর্তমানে হামলাকারীকে হেফাজতে রেখে এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এদিকে, হামলার পরপরই রক্তাক্ত ও যন্ত্রণায় কাতর রিকশাচালককে উদ্ধার করে দ্রুত আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার পায়ে বেশ গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। রক্তপাত বন্ধ করতে চিকিৎসকগণ তার ক্ষতস্থানে তিন থেকে চারটি সেলাই দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দৃঢ় দাবি, মূলত অটোরিকশাটি ছিনতাই করার হীন উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ওই নিরীহ রিকশাচালকের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কেন হঠাৎ ডাবের দোকান থেকে দা নিয়ে এমন উন্মত্তের মতো হামলা চালাল, তার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হামলার প্রকৃত কারণ এবং এটি আসলেই ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা পুলিশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাতের বেলায় খেটে খাওয়া পরিবহন শ্রমিকদের ওপর এমন আকস্মিক ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা তাদের পেশাগত নিরাপত্তাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সাহসিকতার কারণে এবার হয়তো বড় কোনো অঘটন থেকে রিকশাচালক বেঁচে গেছেন এবং অপরাধী ধরা পড়েছে। কিন্তু সড়কে শ্রমিকদের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাতের অন্ধকারে টহল আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ছিনতাই ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হয়।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন