প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ভাদাইলে পাওনা ৮৫০ টাকা চাওয়ায় পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া

ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় পাওনা ৮৫০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পিস্তল প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোহাগ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মজনু মিয়া আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পাওনা টাকা চাওয়ায় হুমকির অভিযোগ
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, সোহাগের কাছে মজনু মিয়ার ৮৫০ টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা ফেরত চেয়ে আসলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন মজনু।

সম্প্রতি পাওনা টাকা চাইতে গেলে সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন মজনু মিয়া।

মজনুর দাবি, ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।

মজনু মিয়া আরও অভিযোগ করেন, সোহাগ ও হৃদয় ভাদাইলের পিয়ার আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন মিন্টুর নেতৃত্বে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ভাদাইল এলাকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন মজনু।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর মজনু মিয়া আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে পিস্তল প্রদর্শন, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনার তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মজনু মিয়া বলেন, আমি শুধু আমার পাওনা ৮৫০ টাকা চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। তবে কোনো বিরোধের জেরে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ গুরুতর। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ, হৃদয় ও দেলোয়ার হোসেন মিন্টুর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগেরও স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আশুলিয়া থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মজনু মিয়া। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন