প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পথভ্রষ্ট রাজনীতি ও নাগরিক সচেতনতা !

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ষ্টাফ রির্পোটার :

বাংলার রাজনীতি ও নাগরিক সচেতনতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের অসচেতনতা, রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রভাব জাতির অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

 

প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশের সম্পদ, সংস্কৃতি, ভাষা, জাতীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। শাসক শ্রেণির ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বারবার ব্যর্থতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সুশাসনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারাকে অনেকে জাতীয় জীবনের বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছে। তবে সমালোচকদের মতে, অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনকল্যাণের কথা বললেও ক্ষমতা ধরে রাখা ও দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

জাতীয় স্বার্থের কথা বলে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলে অনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকগুলো সমাজে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

 

প্রাচীন যুগে রাজনীতির মূল নিয়ামক ছিল শক্তি ও ক্ষমতা। তবে আধুনিক যুগে রাজনীতির ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে রাজনীতিকে জনসেবা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই আদর্শের সঙ্গে অনেক সময় বড় ধরনের দূরত্ব দেখা যায়।

 

অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি জনগণের সেবার পরিবর্তে ক্ষমতা বিস্তার, দুর্নীতি ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

রাজনৈতিক বিরোধের কারণে হত্যা, হামলা, গুমসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংস ঘটনার অভিযোগ অতীতে বহুবার সামনে এসেছে। সত্য প্রকাশে কাজ করা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক সংকটও জাতীয় উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রবণতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বৃহৎ বাজারের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশ বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

 

বিশ্বের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বসবাস করে। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি পশ্চিমা শক্তিগুলোও এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বাজার সম্ভাবনা দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

 

তবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত এবং বহিরাগত প্রভাব মোকাবিলায় দায়িত্বশীল রাজনীতি ও নাগরিক সচেতনতা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন