প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বান্দরবানের সরকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

মোঃ আসমত হোসেন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি :

কোনো মেডিকেল ডিগ্রি, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বা সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বান্দরবানের কুহালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফ সিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি চেম্বারে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এবং অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

 

তিনি পেশায় একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দিনের বেলায় বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করলেও বিকেলের পর চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখা যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তিনি।

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, আশরাফ সিকদার একজন স্কুলশিক্ষক হলেও এলাকায় চেম্বার খুলে রোগীদের ওষুধ দেন। তাদের ভাষ্য, কোনো ডিগ্রি ছাড়া একজন সরকারি শিক্ষক কীভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এম এ হাসান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ভারপ্রাপ্ত বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিণয় চাকমা জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অতুনু চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা একটি মহান পেশা, যেখানে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের বিষয় জড়িত। তিনি জানান, নামের আগে ‘ডাক্তার’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা রয়েছে। যথাযথ যোগ্যতা ও অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষক আশরাফ সিকদার বলেন, “আমি ডাক্তারি পেশায় নেই। চেম্বারের যাবতীয় কাগজপত্র আমার স্ত্রীর নামে। চেম্বারের মূল ডাক্তার আমার স্ত্রী। আমি সেখানে শুধু বসি। নামের আগে ডাঃ ব্যবহারের জন্য আমার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। সরকারি চাকরির পাশাপাশি ডাক্তারি পেশায় থাকা বা না থাকার বিষয়ে আমি অবগত নই।”

 

সচেতন মহলের মতে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি কোনো অনুমোদন ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত হওয়া এবং চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল কাজে জড়িত হওয়ার অভিযোগ গুরুতর বিষয়। তারা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকতার মতো মহান পেশার আড়ালে যদি কেউ সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অনুমোদনহীন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিষয়টির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন